লালবাগে গুলি করে হত্যা
মূল অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৩, পিস্তলের গুলি জব্দ

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগে কিশোরগ্যাং সদস্যদের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ রাফি (২৫) হত্যার মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ইমন, শাহাবুদ্দিন ও রেজাউল। এ ছাড়া ইমনের দেখানো মতে কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ইমন রাফি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে রাতে লালবাগের শহীদনগর ৩ নম্বর গলির বেড়িবাঁধে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রাফি। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে গত বুধবার সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন।
জানা গেছে, সেদিন ওই গলিতে এলাকারই কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন যুবক সজীব নামের এক যুবক এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে সজীব রাফিকে তার বাসা থেকে ডেকে আনেন। দু’জন মিলে ওই যুবকদের কাছে যাওয়ামাত্রই ইমনকে লক্ষ্য করে একজন পিস্তল বের করে গুলি করে চলে যায়।
নিহত রাফির দুলাভাই আব্দুস সাত্তার জানান, রাফির অনলাইনে ব্যবসা ছিল। নিজ বাসাভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন। আমরা জানতে পেরেছি একই এলাকার ইমন, শাহাবুদ্দিন, রেজাউল, মিন্টু তার কাছে শাহিন নামের এক ব্যক্তির খোঁজ জানতে চান। শাহিনের তথ্য না দিতে পারায় রাফিকে প্রথমে মারধর করে, পরে পাজরে গুলি করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানিয়েছেন, রাফির ডান পাজরে একটি গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। রাফির অবস্থা প্রথম থেকেই গুরুতর ছিল। ঘটনার দিনই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই এক সপ্তাহ ভর্তি ছিলেন। বুধবার সকালে রাফির মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিন আহত রাফিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. সজীব জানান, ওই গলিতে এলাকারই কয়েকজন যুবক তাকে শাহিন নামের কাউকে চেনেন কি না তা জানতে চান। দেখেননি জানাতেই তারা সজীবকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সজীব সেখান থেকে ছুটে গিয়ে রাফিকে তার বাসা থেকে ডেকে আনেন। এরপর তারা দুজন ওই যুবকদের কাছে যাওয়া মাত্রই ইমন নামে একজন পিস্তল বের করে রাফিকে গুলি করেন। ইমনের সঙ্গে রেজাউল, মিন্টু, শাহবুদ্দিনসহ আরও ৮-৯ জন ছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন আগামীর সময়কে বলেছেন, রাফি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর অভিযান চালায়। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাবুদ্দিন ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের অভিযান চালিয়ে বুধবার মধ্যরাতে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইমনের দেওয়া তথ্য ও তার দেখানো মতে, কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে ৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
রাফি হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




