ঈদ-ই মিলাদুন্নবী ঘিরে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
- চেকপোস্টে তল্লাশি, আকাশে ড্রোন
- মাঠে থাকবে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ও কুইক রেসপন্স টিম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঢাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ধর্মীয় এ উৎসবকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ঠেকাতে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনসমাগমস্থল, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও র্যালিকে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারিতে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদারের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় পিকেট ডিউটি পরিচালনা করছে পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি উপস্থিতিও।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিটের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। সাদা পোশাকে মাঠে থাকবে ডিএমপির গোয়েন্দা সদস্যরাও। সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি চালাবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও র্যালি। এসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্বাভাবিক মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবে। র্যালির সামনে-পেছনে সংশ্লিষ্ট থানার মোবাইল টিমও দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক তদারকিতে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সরেজমিনে মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত র্যাব ও সিআইডি টিমও মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন কেন্দ্র করে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকব।







