মহিলা পরিষদের নাগরিক সংলাপ
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে তৈরি করতে হবে সচেতনতামূলক কনটেন্ট

ছবি: আগামীর সময়
গত ৫ মাসেই সহিংসতার শিকার হয়েছে প্রায় ১ হাজার নারী ও কন্যাশিশু। সামাজিক ও মানসিকতার সংকটের কারণে এ সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যা প্রতিকারে ফরেনসিক বিভাগকে আধুনিকায়ন এবং ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ইমামদের প্রশিক্ষণ, জুমার খুতবায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহবান এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।
শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মহিলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, বাসসের প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক, ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, বি-স্ক্যানের সালমা মাহবুব, সেলিনা পারভীন, মাকসুদা আখতার লাইলী, হাসিনা আক্তার ও গণমাধ্যমকর্মী হাবিবুর রহমান।
আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তির সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
সামাজিক ও মানসিকতার সংকটের কারণে দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। বলেন, সরকার মাদক ও সহিংসতা নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও এ দেশে বিচার বিলম্ব একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাজের অনেক গভীরে প্রোথিত। সমস্যা প্রতিকারে ফরেনসিক বিভাগকে আধুনিকায়ন এবং ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
রাশেদা কে. চৌধুরী সাইবার বুলিংয়ের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করতে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে ধর্মকে। ইমামদের প্রশিক্ষণে এবং জুমার খুতবায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের বিষয়টি যুক্ত করার পাশাপাশি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানান তিনি।


