কী আছে জুলাই জাদুঘরে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর । ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনকে রূপান্তর করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ। দীর্ঘদিন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভবনটি এখন ইতিহাসের এক ভিন্ন অধ্যায়ের সাক্ষী। এখানে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, ভুক্তভোগীদের স্মৃতি এবং সে সময়ের নানা আলামত গ্যালারিভিত্তিকভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
জাদুঘরে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের সামনে উঠে আসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ। আলোকচিত্র, ভিডিও, তথ্যচিত্র, গ্রাফিতি, প্রতীকী শিল্পস্থাপনা ও বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনের শুরু থেকে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।
প্রতীকী নির্যাতনের চেয়ার
প্রদর্শনীর একটি অংশে রাখা হয়েছে একটি কাঠের চেয়ার, যা গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পাশের বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের এমন চেয়ারে বসিয়ে করা হতো নির্যাতন। দর্শনার্থীদের অনেকে স্থাপনাটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এবং প্রদর্শিত তথ্য পড়ছেন।
শাপলা চত্বরের ঘটনা
আরেকটি গ্যালারিতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনার আলোকচিত্র ও তথ্য প্রদর্শন করা হয়।
সেখানে সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
আবরার ফাহাদকে নিয়ে গ্রাফিতি
জাদুঘরে স্থান পেয়েছে আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে আঁকা একটি গ্রাফিতি। সেখানে তার চোখ লাল কাপড় দিয়ে আবৃত অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে—‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’।
প্রতীকী ‘আয়নাঘর’
জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ প্রতীকী ‘আয়নাঘর’। ছোট ও সংকীর্ণ একটি কক্ষের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের কী ধরনের পরিবেশে আটকে রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্ষটির আকার এতটাই ছোট যে, একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও কঠিন। এর মধ্যেই প্রতীকীভাবে খাবার, পানি ও টয়লেট ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
নির্যাতনের প্রতীকী মোটর
আরেকটি প্রদর্শনীতে একটি মোটর রাখা হয়েছে। প্রদর্শনীর বর্ণনায় বলা হয়েছে,
এটি নির্যাতনের একটি প্রতীকী উপস্থাপনা, যেখানে ধীরে ধীরে চাপ বাড়িয়ে ভুক্তভোগীকে শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রতীকী শিল্পস্থাপনা
জাদুঘরে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে একটি প্রতীকী শিল্পস্থাপনা রয়েছে। এতে তার মাথার ভাস্কর্যের ভেতরে একটি ঘূর্ণায়মান চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর বর্ণনায় এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শাসনব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শেখ পরিবারের সদস্যদের প্রতীকী উপস্থাপন
আরেকটি স্থাপনায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একটি ভাস্কর্যে রকেটের প্রতীক এবং অন্যটিতে টাকার বান্ডিলের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। প্রদর্শনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো বিভিন্ন অভিযোগ ও জনমতের প্রতীকী প্রকাশ।
ভাইরাল দৃশ্যের প্রতীকী পুনর্নির্মাণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি ঘটনার প্রতীকী পুনর্নির্মাণও রয়েছে জাদুঘরে। সেখানে একটি ট্যাংকের ওপর থেকে একটি মরদেহ নিচে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
দর্শনার্থীদের অনেককে এ প্রদর্শনীর সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।
টিনের ঢাল হাতে আন্দোলনকারীর প্রতীক
একটি বড় শিল্পস্থাপনায় একদিকে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত পুলিশের সারি, অন্যদিকে একজন আন্দোলনকারীকে টিনের পাত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইট ছুড়তে দেখা যায়। আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বহুল আলোচিত দৃশ্যের প্রতীকী রূপ এটি।
ভাঙা কাচের সংরক্ষণ
গণভবনে সংঘটিত ভাঙচুরের সময় ক্ষতিগ্রস্ত কাচ ও অন্যান্য আলামতের কিছু অংশ সংরক্ষণ করে কাচের বাক্সে প্রদর্শন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনার নিদর্শন হিসেবে সেগুলো দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।












