বেড়াতে গিয়েছিলেন চিকিৎসক, তালা ভেঙে চোর নিয়ে গেল স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা
- সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে চোরের গতিবিধি
- দুই দিনেও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরে ভাড়া বাসা তালাবদ্ধ করে পারিবারিক কাজে রাজশাহী গিয়েছিলেন এক ডেন্টাল সার্জন। তিন দিন পর ঢাকায় ফেরার পথেই বাড়ির মালিকের ফোনে জানতে পারেন, তার বাসার দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরে আলো জ্বলছে। পরে ভিডিও কলে দেখতে পান, ঘরের আসবাবপত্র তছনছ এবং ভাঙা হয়েছে আলমারি।
ঢাকায় ফিরে বাসায় ঢুকে ওই চিকিৎসক দেখেন, আলমারিতে সযত্নে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নেই। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডেন্টাল সার্জন কানিজ ফাতেমা বিনতে আলম (৫৪)।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-৬-এর একটি বাসায়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ১৭ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি বাসাটিতে ঢুকে চুরি করে বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এ ঘটনায় পরদিন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক প্রয়োজনে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজশাহীর উদ্দেশে ঢাকার বাসা থেকে বের হন কানিজ ফাতেমা। যাওয়ার আগে বাসার সব দরজা-জানালা তালাবদ্ধ করে যান তিনি।
খবর পেয়ে কানিজ ফাতেমা বাসার মালিককে ভিডিও কলে ঘরে ঢুকে পরিস্থিতি দেখতে বলেন। তখন মোবাইলের পর্দায় দেখতে পান, ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং আলমারি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তিনি বিষয়টি মিরপুর মডেল থানায় জানান। ঢাকায় পৌঁছে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ঢুকে দেখতে পান, শয়নকক্ষ ও পাশের কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়েছে। দুই কক্ষের কাঠের আলমারিও ভাঙা।
আলমারিতে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা না পেয়ে থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে প্রায় আড়াই ভরি ওজনের চারটি স্বর্ণের আংটি, ১ দশমিক ৭৫ ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন, তিন ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের নেকলেস এবং দেড় ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা। শুধু স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া নগদ চার লাখ টাকা ও প্রায় তিন হাজার টাকা মূল্যের একটি পুরোনো বাটন মোবাইল ফোনও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসক।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১৭ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি মূল গেটের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর মূল ভবনের কেচিগেটের পাশের ছোট একটি গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তিনি। পরে বাসার মূল দরজার তালাও অল্প সময়ের মধ্যে খুলে ফেলেন। বাসার ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান।
কানিজ ফাতেমা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তার কাছে মনে হয়েছে, চোরটি বেশ কৌশলী ছিল। সে যেসব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেসব স্থান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই শহিদুল ইসলাম সোমবার বিকেলে বলেন, বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসাটি ফাঁকা থাকার বিষয়ে চোরের আগে থেকেই তথ্য ছিল এবং চুরির আগে বাসাটি রেকি করা হয়ে থাকতে পারে। যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেসব এলাকা এড়িয়ে চলতে দেখা গেছে তাকে। কোনো কোনো ফুটেজে শুধু পা দেখা গেছে, আবার কোথাও ছবিও স্পষ্ট নয়। এ কারণে শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।




