স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

ছবি: আগামীর সময়
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকমুক্ত প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রবিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)-এর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই মধ্যে সব ধরনের তামাকপণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
এ সময় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মন্ত্রীর হাতে একটি আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদপত্র তুলে দেয় প্রজ্ঞা ও আত্মা।
প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, সংশোধিত আইনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (ডিএসএ) বাতিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের মতো পদক্ষেপ দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস, নিকোটিন পাউচসহ নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। প্রতিনিধি দলের মতে, এসব পণ্য তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে দিতে পারে।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাই কার্যকরভাবে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় বাজেটে সব ধরনের তামাকপণ্যের কর ও দাম বাড়িয়ে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে আত্মার আহ্বায়ক মতুর্জা হায়দার লিটন, সহ-আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ, সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন এবং প্রজ্ঞার পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।






