সিজারের ব্যথা ভুলে মায়ের কণ্ঠে এখন শুধুই আর্তনাদ

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের আগে একটা মা সাধারণত কী স্বপ্ন দেখে? ছোট্ট একটা জামা। নরম একটা কম্বল, আর বুকভরা এক পৃথিবী আনন্দ। কেউ আগেই নাম ঠিক করে রেখেছিল। কেউ ফোন করে বলেছিল, মেয়ে হয়েছে, কেউ আবার প্রথমবার বাবার কণ্ঠে শুনেছিল,আমার ছেলেটাকে একবার ভিডিও কলে দেখাও।
কিন্তু সেই আনন্দ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল আজীবনের দুঃস্বপ্নে। আদ-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে কয়েকটি নবজাতকের মৃত্যু। কর্তৃপক্ষ বলছে ৬ জন। স্বজনদের দাবি, সংখ্যাটা আরও বেশি। কেউ জানে না, কেন একে একে নিভে গেল জন্মের কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের ছোট ছোট প্রাণগুলো। এই শিশুরা কেউ পৃথিবীটা ঠিকমতো দেখতেই পারেনি। কারও চোখ পুরোপুরি খুলেনি। কারও হাত এখনও মায়ের আঙুল শক্ত করে ধরতে শেখেনি। কারও নামও রাখা হয়নি এখনও।
একজন মা, যে কয়েক ঘণ্টা আগেও সিজারের ব্যথা নিয়ে শুয়ে ছিলেন, তিনি এখন হাসপাতালের ফ্লোরে বসে কাঁদছেন। বারবার শুধু একটা কথাই বলছেন, আমার বাচ্চাটাকে একবার দেন… আমি আর কিছু চাই না।
কেউ বুকের দুধ খাওয়ানোর অপেক্ষায় ছিল। কেউ প্রথমবার কোলে নেওয়ার অপেক্ষায়। কেউ ঈদের দিন শিশুকে নতুন জামা পরাবে বলে গুছিয়ে রেখেছিল ছোট্ট কাপড়। কিন্তু এখন?এখন সেই মায়েদের কোল খালি। হাসপাতালের করিডোরে শুধু কান্না আর আর্তনাদ। একটা বাবার চোখেও পানি… কিন্তু সে কাঁদতেও পারছে না। কারণ তাকে এখন স্ত্রীর সামনে শক্ত থাকার অভিনয় করতে হচ্ছে।
যে শিশুর জন্য ছোট্ট কাপড় কেনা হয়েছিল, এখন সেই শিশুর জন্য লাগছে সাদা কাপড়। যে মায়ের বুকভরা দুধ ছিল সন্তানের জন্য, সেই মা এখন বুক চাপড়ে কাঁদছে।
একটা মা কীভাবে মানবে, নয় মাস পেটে রাখা সন্তানটা পৃথিবীতে এসেই চলে গেল? একটা বাবা কীভাবে বাসায় ফিরবে? কীভাবে বলবে বাচ্চাটা আর নেই ঈদের চাঁদ উঠবে ঠিকই। মানুষ আনন্দ করবে, কোরবানি দেবে। কিন্তু কিছু পরিবারের জন্য এবারের ঈদ মানে একটা খালি কোল, একটা নিঃশব্দ ঘর, আর সারাজীবনের না বলা কান্না।








