ঢাকার পানির চাহিদা মেটানো দুই প্রকল্পের মাঝে আরেক প্রকল্প ওয়াসার
- ২০২৯ সালের পানির চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৫৫৮ এমএলডি
- বর্তমান উৎপাদন হয় ২৯৭৭ এমএলডি পানি
- ২০২৮ এর মধ্যে দুটি শোধনার চালুর আশা
- অন্তবর্তী চাহিদা পূরণে বসবে ৩৮৮ গভীর নলকূপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতেও রাজধানী ঢাকার মানুষের পানির চাহিদা পূরণে ভূগর্ভেই যাচ্ছে ওয়াসা। বর্তমানে দুটি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগারের নির্মাণ কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো চালু হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। কিন্তু এই অন্তবর্তী সময়ের জন্য চাহিদা পূরণে ৩৮৮টি গভীল নলকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য হাতে নেওয়া হচ্ছে ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ নামে আর একটি প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের কাছে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে ৪৮২ কোটি ৫৫ লাখ এবং সরকারি অনুদান পাওয়া যাবে ৩২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণায়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে আগামী ১৯ জুলাই হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানান, পিইসি সভায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এর মধ্যে প্রকল্পটির অনুকুলে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো (এমটিবিএফ) সিলিং সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। কেননা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়া নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া এর আগে একনেকের দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব খাতের ব্যয় কমানো হয়েছে তার একটি তুলনামূলক বিবরণী দেওয়া উচিত ছিল। সেটি কেন দেওয়া হয়নি তা জানতে চাওয়া হবে। আরও বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। সেগুলোর প্রেক্ষিতে দেওয়া হবে সুপারিশ।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন আগামীর সময়কে বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার বেশ কিছু সাফল্যও আছে। ঢাকায় যে হারে মানুষ বাড়ছে তাদের চাহিদা পূরণে ওয়াসা ভালো করছে। যে দুটি প্রকল্পের কাজ চলছে সেই দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর মাঝে আবার ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে নতুন প্রকল্প কেন লাগবে সেটি পরিকল্পনা কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে। প্রয়োজনে ওয়াসার এক্সপার্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত অর্থেই নতুন আর একটি প্রকল্পের প্রয়োজন আছে কিনা সেটি দেখা উচিত।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদার বিপরীতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অতিরিক্ত ৫৭৬ এমএলডি পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্ক্যাডা সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং ঢাকা মহানগরীর প্রায় ২ কোাটির বেশি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে স্থাণীয় সরকার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা পানি সরবারাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা ওয়াসা) ঢাকা নগরী এবং এর নিকটবর্তী এলাকার অধিবাসীদের সুপেয় পানি সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা। বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানি থেকে ২৯৭৭ এমএলডি পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। প্রায় ২ কোটি নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করছে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎপাদনের অনুপাত ৬৬ দশমিক ৩৪। জনগণের জীবনযাত্রার মান ও আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটায় তাদের মাথাপিছু পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৯ সালে পানির চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা ওয়াসার ভিশন হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নিভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করা। সে লক্ষ্যে চর-গন্ধবপুর পানি শোধনাগার ফেজ-১ (৫০০ এমএলডি) এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩ (৪৫০ এমএলডি) এর নির্মাণ কাজ চলমান। এগুলো যথাক্রমে আগামী ২০২৬ ও ২০২৮ সাল নাগাদ চালু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই ওই দুটি চালু না হওয়া পর্যন্ত নগরবাসীর পানির চাহিদা অনুসারে উৎপাদন সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য অন্তর্বতী ব্যবস্থা হিসেবে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত মূল কার্যক্রম
ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৪৪৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হবে ৩৮৮ গভীর নলকূপ। পাম্প মটরসেট। এ ছাড়া ৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হবে ৩৮৮টি পাম্প মটর সেট। ২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮৮টি ভেরিয়েবল ফ্রিকুয়েন্সি ড্রাইভ সরবরাহ ও স্থাপন করা হবে। আরও আছে, ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ৪১৮ সেট পাম্প ডেলিভারী লাইন স্থাপন, ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া ১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ২৫০টি পাম্প ঘর তৈরি, ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকায় ২৮০টি গভীর নলকূপ রি-জেনারেশনসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।




