‘অসুস্থ বোনকে নিয়ে কীভাবে যাব’— অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে ভোগান্তি চরমে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট। এ অবস্থায় রোগীদের আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশায়। এতে গুরুতর রোগীদের নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের। ছবি : আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে গত ২০ অক্টোবর অসুস্থ বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন রাসেল আহমেদ। আজ বুধবার সকালে সেই রোগীকে ছুটি দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু বোনকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না রাসেল।
আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘সকাল থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না। আমার বোন এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। এ অবস্থায় তাকে নিয়ে কীভাবে এত দূর যাব? এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।’
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী এবং স্বজনরা। অনেক চেষ্টার পরেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো অ্যাম্বুলেন্স।
দুই দিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্যারালাইসিস হওয়া এক রোগী নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে এসেছেন তানভীর হোসেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিতে হবে সেই রোগীকে। কিন্তু আজ বুধবার সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরেও পাননি কোনো অ্যাম্বুলেন্স।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সকাল থেকে চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না। রোগী নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’
এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে কেবল দুই-তিনটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে। বেসরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটু পর পর রোগীরা আসছেন সিএনজি বা অটোরিকশায় করে। গুরুতর রোগীদের সিএনজি বা অটোরিকশা থেকে নামাতে বেগ পেতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।
আবার অনলাইন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করছেন কেউ কেউ। তবে, ঢামেক হাসপাতালের গেটে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন চালকরা।
রোগীর স্বজন তানভীর হোসেন বলছিলেন, ‘ফোন করে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে কথা বলি। ড্রাইভার জানালেন, রোগীকে নিতে হাসপাতালের গেটে আসবেন না তিনি। আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় শাহবাগ পর্যন্ত এগিয়ে নিলে তিনি সেখান থেকে রোগীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।’
ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিষিদ্ধ করেছেন। জরুরি বিভাগের পাশে অ্যাম্বুলেন্স সমিতির যে কক্ষটি ছিল সেটি রোগীর স্বজনদের জন্য বসার স্থান করেছেন। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। দাবি না মানলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।




