সড়ক প্রতিমন্ত্রী
নিরাপদ সড়কে চালকদের সুস্বাস্থ্য ও ভালো দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করা জরুরি

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, উন্নত সড়ক অবকাঠামো, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চালকদের সুস্বাস্থ্য ও ভালো দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করাও জরুরি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ‘সি টু বি সেফ’ উদ্যোগের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, একজন চালক যখন স্টিয়ারিং হাতে বসেন, তখন তাঁর ওপর শত শত যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই চালকের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা মানে শুধু একজন মানুষকে সহায়তা করা নয়, অসংখ্য যাত্রীর জীবন সুরক্ষিত রাখা।
তিনি আরও বলেন, ভিশনস্প্রিংয়ের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি নিজেও এ কর্মসূচির আওতায় চোখ পরীক্ষা করিয়েছেন এবং চশমা পেয়েছেন। চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন জানিয়েছেন, দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ চালক। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকির কারণ। তাই চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ভিশনস্প্রিং ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ মানুষের কাছে রিডিং গ্লাস পৌঁছে দিয়েছে। চালকদের চোখের সেবা নিশ্চিত করে দেশের সড়কগুলো আরও নিরাপদ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ভিশনস্প্রিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে প্রয়োজনীয় চশমা দেওয়া হয়েছে। ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে ৫০ হাজার বাস ও ট্রাকচালকের চোখ পরীক্ষা এবং ৩০ হাজার চশমা বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিরাপদে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ভালো দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব নিয়ে একটি উপস্থাপনা এবং ‘প্রমোটিং রোড সেফটি থ্রু বেটার ভিশন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ভিশনস্প্রিংয়ের প্রজেক্ট ডিরেক্টর শাহরোজ জলিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি।এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের চোখের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।



