লোডশেডিং বাড়তেই চার্জার লাইটের বাজার গরম

চার্জার লাইটের দোকানগুলোতে বেড়েছে চাহিদা। ছবি: আগামীর সময়
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রাজধানীর ইলেকট্রনিকসের বাজারে বেড়েছে চার্জার লাইটের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দামও। কোথাও কোথাও একই ধরনের চার্জার লাইটের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে চার্জার লাইট, এসি-ডিসি লাইট ও পোর্টেবল ফ্যান কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ঢাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস মার্কেট ও ফুটপাতের দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। বিক্রেতাদের দাবি, আমদানি খরচ বৃদ্ধির কারণেও পাইকারি পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে।
কয়েক সপ্তাহেই বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে যে চার্জার লাইট ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন একই ধরনের পণ্যের দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। কোনো কোনো দোকানে দাম আরও বেশি।
মিরপুরের একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানের বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বললেন, ভালো মানের পণ্য পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। যে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ‘ক্রেতারা ভালো লাইট চান। কিন্তু পাইকারি বাজারে কম দামের পণ্যই বেশি পাওয়া যায়। এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে এসি-ডিসি লাইট।’
একই এলাকার আরেক বিক্রেতা সাব্বির বললেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে আগের তুলনায় চার্জার লাইটের বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে ফ্যানযুক্ত বা অ্যাডজাস্ট করা যায় এমন চার্জার লাইটের চাহিদা বেশি।
সাব্বিরের মন্তব্য, ‘বেচাকেনা বাড়ার পর গোডাউন থেকেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাইকারদের কাছে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, আমদানি খরচ বেড়েছে। এখন সপ্তাহে সপ্তাহেই দাম বাড়ছে।’
ক্রেতাদের বাড়তি খরচ
দাম বাড়ার চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও। চার্জার লাইট কিনতে মিরপুরের বাজারে এসেছিলেন শিক্ষার্থী মাহবুব। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
মাহবুব আক্ষেপ করেন, ‘ফ্যান না থাকলেও কোনোভাবে থাকা যায়, কিন্তু পড়াশোনার জন্য আলো দরকার। তাই চার্জার লাইট কিনতে এসেছি। গত সপ্তাহে আমার এক বন্ধু যে লাইট ৬০০ টাকায় কিনেছে, আজ সেই একই লাইটের দাম ৯০০ টাকা চাচ্ছে।’
মিরপুরের আরেক ক্রেতা আরাফাত বলেন, গত মাসে বাসার জন্য একটি চার্জার লাইট ৫০০ টাকায় কিনেছিলেন। এখন একই ধরনের লাইট ৭০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি হতাশা প্রকাশ করেন, ‘অফিসের একজন বলেছিল, ফ্যানসহ চার্জার লাইট এক হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি, কোনো কোনো দোকানে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাচ্ছে।’
চাহিদা আছে, পণ্য নেই
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু দাম বাড়েনি, চাহিদার তুলনায় কিছু দোকানে পর্যাপ্ত চার্জার লাইটও নেই। বিক্রেতারা জানালেন, পরিচিত ও ব্র্যান্ডের পণ্য অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে অনেক ক্রেতাকে অপরিচিত ব্র্যান্ডের বা তুলনামূলক কম মানের পণ্য কিনতে হচ্ছে। এতে পণ্যের স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোডশেডিং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে চার্জার লাইটের পাশাপাশি আইপিএস, পোর্টেবল ফ্যান ও জেনারেটরের মতো বিকল্প বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে। আর চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান থাকলে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব যে শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই পড়ছে না, তা এখন স্পষ্ট ইলেকট্রনিকসের বাজারেও। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আলোর পণ্যের বাজারে এই বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।








