অপহরণের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রতীকী ছবি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা আদায়চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) দুজন এবং একজন রয়েছেন আনসার সদস্য।
শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরে আদালতে তোলা হলে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এস আই মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯), একই সংস্থার ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২) ও বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তা প্রহরী মুকুল গাজী (২৬)।
বাকি দুজন হলেন নেত্রেকোণার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।
সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ৬ জনকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলো না।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে চাননি মোহাম্মদপুর থানার কোনো কর্মকর্তা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এজাহারের বর্ণনা জানিয়েছেন থানায় কর্মরত একাধিক ব্যক্তি।
পুলিশ বলেছে, মামলাটি করেছেন শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। এরপর শনিবার সোহেল রানা তাকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান।
এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিনি ওখানে যান। সেখানে সোনিয়া নামে এক নারী ছিলেন, যাকে নিজের বোন বলে পরিচয় দেন আনসার সদস্য সোহেল। এরপর বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মামলার বাকি আসামিরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারধর করেন ও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
এজাহারে বাদী বলছেন, তিনি ঘটনাস্থলেই আসামিদের ৭০ হাজার টাকা দেন। এতে তারা সন্তুষ্ট না হলে আরও মারধর করে। তিনি তার পরিবারকে ফোন দিয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
বাদীর দাবি, ভোর ৩টার দিকে আসামিরা তাকে ওই বাড়ি থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে উঠায়। গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের উল্টো দিকে রেখে আসামিরা চা পান করতে নামে। এসময় বাদী একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে দৌড় দিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চায়। গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল দলের। টহল পুলিশ তাৎক্ষণিক ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই ডিজিএফআই সদস্যকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদর থেকে কর্মকর্তারা থানায় আসেন এবং বিষয়টি যাচাই করেন। এরপর তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেন শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। বললেন, ‘শিশু হাসপাতালের কাছে আমাদের চেক পোস্ট চলছিল। ওই সময় ওই ব্যবসায়ী আমাদের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানায় গাড়িসহ হস্তান্তর করা হয়।’





