বাঁশখালীতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, নেপথ্যে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য
- চক্রের মূল হোতা চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য কারাগারে গড়ে তোলেন ভুয়া এসআরবি চক্র

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার। ১৭ অক্টোবর, রাত সাড়ে ৮টা। নিজের দোকানে বসেছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান। সেসময় কালো ক্যাপ ও মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে ঢোকেন। নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা এহছানের যমজ ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর এহছানের দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো হয় এবং টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে নেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে এ দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকান থেকে বের করে এহছানকে প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে গাড়ি বদল করে তাকে কক্সবাজারের টেকনাফে নেওয়া হয়।
অপহরণের প্রায় ৩ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর ব্যবহার করে এহছানের স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপককে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এহছানের চাচাতো ভাই জসিম উদ্দিন বলেছেন, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছেন যারা এসআরবি পরিচয়ে নিয়ে গেছেন, তারা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন। তিনি আরও বলেছেন, ‘কারা এবং কী কারণে এহছানকে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে পরিবার তখন কিছুই জানত না।’
এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা-পুলিশের যৌথ দল তৎপর হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার ভোরে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে এহছানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অপহরণকারীদের শনাক্ত করি।’ তার ভাষ্যমতে, এই চক্রের মূল হোতা চাকরিচ্যুত এক সেনাসদস্য, যিনি কারাগারে থাকাকালে বিভিন্ন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে এ ভুয়া এসআরবি চক্র গড়ে তোলেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে আছেন— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, কুতুবদিয়ার মিজানুর রহমান, উখিয়ার জয়নাল উদ্দিন, বাঁশখালীর মো. আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদরের দেলোয়ার হোসেন।
পুলিশের দাবি, আব্বাস ও দেলোয়ার সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি নজরে রেখে সুমনকে তথ্য দিতেন। এরপর সুমন দল নিয়ে ভুয়া পরিচয়ে অপহরণ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতেন। জব্দ করা হয়েছে একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো এসআরবি ক্যাপ, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হাতকড়া।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। জয়নালের বিরুদ্ধে তিনটি, সেলিমের বিরুদ্ধে দুটি এবং আব্বাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। গ্রেপ্তার ছয়জনই অভিযুক্ত, আদালতে এখনো বিচার শুরু হয়নি।



