নতুন সাজে ওসমানী উদ্যান
- জনপ্রতি প্রবেশ ফি ১০ টাকা
- প্রবেশমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ দর্শনার্থীদের কারও কারও
- দায়িত্বরতরা বলছেন, পরিবেশ সুন্দর রাখাসহ রক্ষণাবেক্ষণে প্রবেশমূল্য। অহরহ মাদকসেবীর প্রবেশ এড়াতে ভূমিকা রাখবে এ ফি

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর গুলিস্তানের ওসমানী উদ্যান। উদ্যানটিতে প্রবেশমূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীদের কেউ কেউ। তবে উদ্যানের দায়িত্বরতরা বলছেন, পরিবেশ সুন্দর রাখাসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে অহরহ মাদকসেবীর প্রবেশ এড়াতে এ ফি ভূমিকা রাখবে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, প্রবেশমূল্য আরোপ করায় সাধারণ মানুষের জন্য উদ্যানটি ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত সকাল-বিকাল এই পার্কে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করতে আসতেন, তাদের জন্য দৈনিক টিকিট কেটে প্রবেশ করা ব্যয়বহুল।
এদিকে উদ্যানটি খুলে দেওয়া হলেও এর বেশ কিছু স্থাপনা এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা এবং সবুজ কমে যাওয়ায় উদ্যানের পরিবেশ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর আগের দিন সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেন। রাজধানীর নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে অবস্থিত ২১ দশমিক ৮৫ একর আয়তনের এ উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে।
গতকাল বুধবার পুরানা পল্টন থেকে পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন রাকিব হাছান ও তার বন্ধুরা। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পার্কটি খুলে দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেন তারা। তবে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হওয়ায় অসন্তোষও ঝরল তাদের কণ্ঠে।
রাকিব বলছিলেন, সাধারণ মানুষের মুক্ত বাতাস ও শরীরচর্চার জন্য উন্মুক্ত এই উদ্যানটিকে এভাবে টিকিট কেটে ঢোকার বিষয়টি মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। পার্ক বা উদ্যান হবে উন্মুক্ত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলছিলেন রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্ক কিংবা শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্কের কথা।
তবে উদ্যানের প্রবেশমূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামের দাবি, পরিবেশ সুন্দর রাখা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে এ ফি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলছিলেন, উদ্যান পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। প্রবেশমূল্য না থাকলে অনেকে উদ্যান অপরিচ্ছন্ন করতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অবশ্য নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, জনসাধারণের জন্য নির্মিত পার্কে প্রবেশমূল্য আরোপ করা অন্যায্য। তার মতে, পার্ক ও খেলার মাঠের মতো জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। নিয়মিত হাঁটাচলা করতে আসা মানুষের জন্য ফি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি উদ্যানের উন্নয়নকাজে অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ ও সবুজ কমে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
এদিকের উদ্যানের দুটি জলাশয়ের একটিতে পানি নেই। অন্যটিতে পানি থাকলেও কচুরিপানা ও প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য ভাসছে সেখানে। ভেতরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রীও পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্বোধন হলেও গ্রন্থাগার, জাদুঘর, জিমনেসিয়াম, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান ও খাবারের দোকানগুলো এখনো চালু হয়নি।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যানটির উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি প্রবেশ ফটক নির্মাণে আরও ৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা।



