থামে না বাস, বোঝার উপায় নেই পেছনে যাত্রী ছাউনি

যাত্রীরা বসে না, বৃষ্টি হলেই ছাউনিতে পানি পড়ে। ছবি- আগামীর সময়
‘জনগণের টাকায় যাত্রী ছাউনিটা হইছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সরকার এটা বানিয়েছে। কিন্তু এটা করে তো জনগণের কোনো লাভ হয় নাই। যারা বানিয়েছে তাদেরই শুধু লাভ। যাত্রীরা তো এখানে বসেই না, বৃষ্টি হইলেই ছাউনিতে পানি পড়ে। সামনে রাস্তায় আবার ভ্যানের দোকান। এখান থেকে যাত্রী উঠবে কীভাবে?’
রাজধানীর পল্টন মোড়ের যাত্রী ছাউনিতে দাঁড়িয়ে আক্ষেপের সঙ্গে এসব কথা বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুল বারেক। আক্ষেপ থাকলেও গত তিন বছর ধরে এই ছাউনির নিচেই চা বিক্রি করছেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘জনগণের টাকায় ছাউনি হইছে, আমি কেন এখানে চা বেচতে পারব না? আর আমি তো ফ্রিতে দোকান চালাই না। ঢাকায় কোনো জায়গায় ফ্রিতে দোকান চালানো যায় না।’
আজ রবিবার সরেজমিনে পল্টন থেকে গুলিস্তান জিপিও ঘুরে দেখা যায় এই চিত্র। পল্টন থেকে গুলিস্তান যাওয়ার পথে মোড় পার হয়ে একটু এগোলেই নির্ধারিত বাস স্টপেজ এবং যাত্রী ছাউনি। নিয়ম অনুযায়ী সব বাসের সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কথা। যাত্রীদেরও অপেক্ষা করার কথা ছাউনির নিচে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাসগুলো ব্রেক কষছে পল্টন মোড়ে, আর সেখান থেকেই তোলা হচ্ছে যাত্রী।
পল্টন মোড়ে অপেক্ষা করছিলেন একাধিক যাত্রী। তাদের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। তারা জানাচ্ছিলেন, সামান্য দূরে যে একটি যাত্রী ছাউনি আছে, তা তারা জানেন না। অন্যদিকে মূল ছাউনিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চত্বর ফাঁকা। অবস্থা দেখে মনে হয় বছরের পর বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত।
রাস্তা থেকে দেখেও বোঝার উপায় নেই সেখানে একটি বাস স্টপেজ বা যাত্রী ছাউনি রয়েছে। ছাউনির সামনের পুরো রাস্তাই ভ্যানগাড়িতে কাপড়সহ নানা সামগ্রী বিক্রি করছেন হকাররা। অপরদিকে যাত্রী ছাউনির ভেতরেই গড়ে উঠেছে দু-একটি চা-বিস্কুটের দোকান। তবে যাদের জন্য এটি তৈরি, সেই যাত্রীদের কোনো দেখা নেই।
ক্ষোভ প্রকাশ করেন পথচারী আলম মাহমুদ। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘এই যাত্রী ছাউনির কথা অনেকেই জানে না। তা ছাড়া এখানে বসে যাত্রীরা করবেই বা কী? বাস তো এখানে থামে না। আর থামলেও হকারের ভ্যান ঠেলে যাত্রী উঠবে কীভাবে? যাত্রী না বসলেও সুবিধা হয়েছে ছিন্নমূল ও ভবঘুরে মানুষের। তারা বেঞ্চে ঘুমায়। আবার অনেক সময় নেশাগ্রস্তদেরও আড্ডা বসে।’
বাস কেন স্টপেজে না থেমে মোড়ে থামে— এমন প্রশ্ন করা হয় ভিক্টর ক্লাসিক বাসের হেলপার আমিনকে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘যাত্রীরা সব মোড়েই দাঁড়িয়ে থাকে। তাই ওখান থেকেই গাড়ি একটু স্লো করে যাত্রী তুলে নিই। যাত্রী ছাউনি তো কেউ ব্যবহার করে না, তাই আমাদেরও ব্যবহার করা হয় না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বলছিলেন, ‘শুধু এই যাত্রী ছাউনি নয়, শৃঙ্খলা ফেরাতে সবগুলো বাস স্টপেজের বিষয়ে তদারকি করা হবে।’





