কড়াইলে কবুতর-সমিতির আড়ালে মাদকের কারবার

মাদক কারবার চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে কবুতর ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে কথিত মাদক গডফাদার কবুতর মমিনের বাসা, কবুতরের দোকান, সমিতি ঘর ও বিকাশের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩টি ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা। তবে অভিযানের সময় কবুতর মমিন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগরীর কড়াইল বস্তিতে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের পাঁচটি পৃথক দল এ অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রানা (৩৮), নুরুন্নাহার (৪০) ও মো. আশরাদুল ইসলাম (২৮)। নুরুন্নাহার কথিত মাদক গডফাদার কবুতর মমিনের স্ত্রী। অভিযানের সময় মমিন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
ডিএনসি বলছে, দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কড়াইল বস্তিতে কবুতর মমিনের মাদক কারবারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাসায় বিপুল পরিমাণ মাদক মজুতের তথ্য পাওয়ার পর কবুতরের দোকান, সমিতি ঘর, বিকাশের দোকান ও বসতঘরে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুন্নাহার জানান, কবুতর ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন তারা। মাদক বিক্রির অর্থ নিজেদের পরিচালিত বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করা হতো বলে ডিএনসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে ডিএনসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, উদ্ধার করা অর্থ মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
এদিকে একই অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. ইমদাদুল হক খান বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উত্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাইদ মিয়া বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কড়াইল বস্তিতেও মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’








