ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে জম্মু ও কাশ্মীর কালো দিবস পালন

ছবি: আগামীর সময়
‘জম্মু ও কাশ্মীর কালো দিবস’ পালন করেছে ঢাকা অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন। আজ মঙ্গলবার দিবসটি পালন করা হয়। এ সময় ভারতের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি অবিচল নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে পাকিস্তান হাইকমিশন। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাকিস্তানি কমিউনিটির সদস্য, ‘ফ্রেন্ডস অব পাকিস্তান’-এর সদস্য এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের বার্তা পড়ে শোনানো হয়। এসব বার্তায় ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবরের কথা স্মরণ করা হয় যেদিন ভারতীয় বাহিনী শ্রীনগরে অবতরণ করেছিল। দিনটি জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী ও মর্মান্তিক অধ্যায়ের সূচনা করে বলে জানানো হয়।
বার্তাগুলোতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবে স্বীকৃত কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অস্বীকার করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য কাশ্মীরি জনগণের আত্মত্যাগ, অদম্য মনোবল এবং অবিচল অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
নেতাদের বার্তায় মানবাধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, কাশ্মীরি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের কারাবন্দি রাখা এবং ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের নেওয়া একতরফা পদক্ষেপ— যার মাধ্যমে অঞ্চলটির সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল— সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কাশ্মীরি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এবং এই বিরোধের একটি ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ভারতের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে নেতারা জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা মূলত জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের ওপরই নির্ভর করে। এই সমাধান হতে হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবাবলি এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে।
পাকিস্তান পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে, তারা সব আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারসহ তাদের বৈধ অধিকারের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতেও গভীর আগ্রহ দেখান। এই প্রদর্শনীতে কাশ্মীরি জনগণের দুর্দশা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধগুলো তুলে ধরা হয়।



