‘স্বাভাবিক’ মিরপুরে ‘সতর্ক’ পুলিশ

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে মিরপুর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ছাড়া মিরপুর এলাকায় গতকাল রবিবার থেকে আজ সোমবার দুপুরে এ খবর লেখা পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের সামনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গার্মেন্টসের শ্রমিক ভাই-বোনেরা আজ কোনো রাস্তা ব্লক করেননি এবং পুলিশও তাদের রাস্তা ব্লক করার কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে সকাল থেকেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ পরিষ্কার রয়েছে। এ এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বললেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে গতকাল (রবিবার) শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠনের খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলমান। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। বোর্ড গঠনের খবর জানার পর শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু তার পরেও তারা নামার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু পারেনি।
মহিদুল ইসলাম বললেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর কিংবা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য পুলিশের ব্যাপক মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি টহল দলও দায়িত্ব পালন করছে।
এখন পর্যন্ত কতজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেছেন, মিরপুরের ১২ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে মিরপুর থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা হলেও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণ কী, সে বিষয়ে কোনো বার্তা আছে কি না, এবং মিরপুরের নিরাপত্তার অবস্থা কেমন— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আশপাশের কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও কোনো ধরনের অবনতি ঘটেনি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। আজকের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো এবং কোথাও কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি।
গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আইন অমান্য করে যারা রাস্তা অবরোধ, গাড়ি বা কারখানায় ভাঙচুর এবং জনগণের জানমাল বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এর আগে আজ সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন সকালে জানিয়েছেন, পোশাকশ্রমিকরা আজও রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিলেন, তবে পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা। আন্দোলনের মুখে গতকাল সরকার পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তারপরও আজ ঢাকার মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে আশুলিয়া ও কালিয়াকৈরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।




