ইট মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া সেই সাজিদ মারা গেছেন

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মাথায় ইট মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সোমবার সকাল ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানালেন, মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে; বিষয়টি কাফরুল থানায় অবগত করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে ফিরছিলেন সাজিদ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন। সাজিদ মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে আসতেই তার মাথা লক্ষ্য করে ছুড়ে মারা হয় ইট। এতে মুহূর্তেই মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি।
পরে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা জানালেন, ভবনের ইট পড়ে আহত হয়েছেন। পরে নিজেদের অটোরিকশায় তুলে নেন সাজিদকে। সিসিটিভি ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাফরুল থানায় মামলা করেন সাজিদের চাচা নুর হোসেন। আসামিরা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু। আমিন নামের এক আসামি পলাতক। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবারের ধারণা, এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। সাজিদকে ইট মারার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত।
সাজিদের পরিবারের দাবি, পৈতৃক সূত্রে অনেক সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী সে। তাদের কিছু সম্পত্তি অন্য আত্মীয়রা ভোগদখল করছে। এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল।
একই ধারণা পুলিশেরও। তারা বলছে, এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে সাজিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলেও এটি ছিনতাই না, পূর্বশত্রুতা থেকে হামলা। ছিনতাইয়ের ঘটনা হলে আসামিরা মোটরসাইকেল নিয়ে যেতেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল পেয়েছে।




