শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ পার্কের নাম পরিবর্তন করায় যুক্তফ্রন্টের ক্ষোভ

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন এবং পার্কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে তারা জেনেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নামে প্রতিষ্ঠিত পার্কটির নাম পরিবর্তন করে ‘সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে।
নেতাদের ভাষ্য, একজন জাতীয় নেতার স্মৃতিবিজড়িত পার্কের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পার্কের ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করা হলে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রবেশ ফি আরোপ, বাণিজ্যিক স্থাপনা, ফুড কোর্ট ও দোকানপাট নির্মাণের মাধ্যমে পার্কের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
নেতারা দাবি করেন, পার্ক ও খেলার মাঠ দখল এবং ধ্বংসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখলমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলে নেতারা জানতে চান, অতীতে যেই গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে দখলদার হিসেবে রাজউক নিজেই দায়ী করেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে এখন পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হলো।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট অবিলম্বে রাজউকের এই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পার্কটির আগের নাম ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ পার্ক’ বহাল রাখা এবং এর ব্যবস্থাপনা রাজউকের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।






