নিউ গিনি প্রপার্টিজের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুরের মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন বিষয়টি জানান।
আকতার হোসেন বললেন, দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ডিবি গুলশান ডিভিশনের একটি দল রমনা থানাধীন সেগুনবাগিচা থেকে নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় গোলাম মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, তার বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলা রয়েছে। তিনি মামলার চার নম্বর আসামি।
গত শনিবার রাতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রকল্পের ভেতরে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
এ ঘটনায় নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া গত রবিবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এ হামলার পেছনে রয়েছে মানিকদী, মাটিকাটা ও ইসিবি চত্বরসংলগ্ন এলাকায় আবাসন ব্যবসা এবং জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ কাঠার একটি জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধ ছিল। সূত্রটির দাবি, গোলাম মহিউদ্দিনের কাছ থেকে জমিটি কিনেছিল নিউ গিনি প্রপার্টিজ। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওই সেনা কর্মকর্তা জমিটি পুনরায় দখলে নেন। জমির চারপাশে নিউ গিনি প্রপার্টিজের বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় রাস্তা নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়, যা সর্বশেষ হামলার ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে তারা ৩৬ জন মিলে একটি সমিতির কাছ থেকে সাড়ে ২৩ কাঠা জমি কেনেন। পরে আরও কয়েকজন যুক্ত হলে জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ কাঠা। তার দাবি, নিউ গিনি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আশপাশের জমি কিনে আবাসন ব্যবসা শুরু করার পর তাদের জমির রাস্তা ছেড়ে দিতে রাজি হননি; বরং জমিটি দখলের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থানা ও সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন তারা।
অন্যদিকে, নিউ গিনি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অনলাইন ডেভেলপার গ্রুপের বিরুদ্ধে মানুষের জমি দখল, মারধর ও প্রাণহানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ হামলার বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেছেন, ঘটনার আগে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে জিডি করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে বিরোধ এবং মামলা রয়েছে। এসব বিরোধের জেরেই সর্বশেষ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



