বাঁচানো গেল না বাসচাপায় আহত মাসুদকে
- ২০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মৃত্যু

বাবা মাসুদের কোলে আড়াই বছরের মাইশা-ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতাল থেকে বাবা ফিরে আসবেন—এমন আশায় ছিল আট বছরের মাহির ও আড়াই বছরের মাইশা। হাসপাতালে বাবাকে দেখতে গিয়ে বারবার বলতেন, ‘বাবা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরবে।’ সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। ২০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য মাসুদ রানা (৩৮)।
আজ রবিবার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত ৮ জুন মানিকগঞ্জের বেথুয়া এলাকায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজে সহকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাসুদ। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে লাইনের কাজ তদারকি করার সময় শুকতারা পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২০ দিনের লড়াইও তাকে ফেরাতে পারেনি।
স্বজনরা জানান, মাসুদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ে চলত বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তানের সংসার। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের জমি বিক্রি করতে হয়েছে, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও ধার করতে হয়েছে। তবুও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না তাকে।
মাসুদের মামাতো ভাই মাসুম বললেন, ‘আমরা শুধু চেয়েছিলাম, মানুষটা বেঁচে ফিরুক। টাকা আবার রোজগার করা যাবে, কিন্তু মানুষটাকে আর ফিরিয়ে আনা গেল না। এখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে দুই শিশুর জন্য। তারা এখনো বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর কোনো দিন ঘরে ফিরবেন না।’
নিহত মাসুদের বাবার নাম আবু তালেব মোল্লা। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। স্বজনদের একটাই দাবি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক। এমন মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়।




