ধর্মীয় সহিংসতা রোধে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তির বাংলাদেশ: আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন ও সম্ভাবনা শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন
দেশে ধর্মীয় বিরোধ প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি বাড়াতে বেসরকারি সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ’ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে উঠে এলো এক আলোচনায়।
বক্তারা বলছিলেন, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির অনেক পরিস্থিতিই এড়ানো গেছে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সচেতনতা ও ধর্মীয় নেতাদের সহিংসতার বিরদ্ধে জোরালো অবস্থানের কারণে। এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানালেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে হয়ে গেল দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তির বাংলাদেশ: আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন। সেখানেই উঠে আসে এসব প্রসঙ্গ।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা বললেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল ও প্রত্যেকেই অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার প্রত্যাশা শান্তির দূত হিসেবে প্রত্যেক মানুষ তার দায়িত্ব পালন করবেন।’
জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলছিলেন, ‘সব ধর্মেই শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার কথা বলা হয়েছে। তাই সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’
আন্তঃধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদও জানান তিনি। বলেন, প্রয়োজন মনে করলে এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার লুইস বেনন, শিক্ষক ও গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সাতক্ষীরা সদর) নাজমুন নাহার, ঢাকা আর্চডায়োসিসের ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়লগ কমিশনের কো-কোঅর্ডিনেটর সিস্টার রেবা ভেরোনিকা ডি'কস্টা এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়।
সম্মেলনের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক মাহমুদুল এইচ সুমন। মূল প্রবন্ধের ওপর নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম, স্পেস-এর ভাইস-চেয়ারপারসন ও মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, আইএফইএসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ এবং সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের সমন্বয়কারী ইমরান হোসেন তুষার।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে সম্মেলনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন, শিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ক একটি উন্মুক্ত আলোচনা হয়।
দেশের ২৭টি জেলার ৭৪টি উপজেলায় এমআইপিএস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ। যার আওতায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি), তরুণ শান্তিদূত, নারী শান্তি সহায়ক এবং একটি জাতীয় আন্তঃধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সহিংসতা প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।



