আশুলিয়ার ট্রিপল মার্ডার, নেপথ্যে গোপন প্রেম
- অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
গোপন প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধ গড়ায় হাতাহাতিতে। মুহূর্তের উত্তেজনায় এক লাথিতে প্রাণ যায় নারী ও তার গর্ভের সন্তানের। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় স্বামীকেও। এরপর নিথর দেহ খাটের ওপর রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক।
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে দম্পতি ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনার মাত্র তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করে মনিরুজ্জামান হৃদয় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। তার কাছ থেকে নিহত নাজমা খাতুনের মোবাইল ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন হৃদয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ তালা খুলে ভেতর থেকে আলমগীর কবির (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো পিবিআই তদন্তে
মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
তিনি জানান, আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের পূর্বপরিচয় ছিল। আলমগীরের স্ত্রী নাজমার সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই মনিরুজ্জামানের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে আলমগীরের সঙ্গে মনিরের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর মনিরকে তাদের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে পুরনো সম্পর্ক নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর মনিরকে মারধর করেন এবং নাজমা তাকে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন। মনির পাল্টা প্রতিরোধের একপর্যায়ে নাজমার পেটে লাথি মারেন। এতে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান। এরপর আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে মনিরকে আঘাত করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মনিরের হাতে থাকা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে আলমগীরের মৃত্যু হয় বলে উঠে এসেছে তদন্তে ।
এরপর তিনজনের মরদেহ খাটের ওপর রেখে কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যান মনির। সঙ্গে নিয়ে যান নাজমার মোবাইল, পরিচয়পত্র ও পার্স। পরে নরসিংহপুরের ভাড়া বাসা থেকে এসব আলামত উদ্ধারও করেছে পিবিআই।
মনির এর আগে ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলায়ও সন্দেহভাজন ছিলেন। ওই মামলায় ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়— জানাল পিবিআই।






