এআই প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে অধিকতর জনবান্ধব : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগে জনপ্রশাসন আরও জনবান্ধব হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দক্ষ, উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ, মর্যাদাশীল ও উজ্জ্বল বাংলাদেশ গঠনে মেধা, শ্রম ও সততার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ১৪৪তম ও ১৪৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বললেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের প্রশাসন আর কেবল নথিপত্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে নীতি বিশ্লেষণ, সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআই নির্ভর করে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অর্থনীতিকে আরওশক্তিশালী করতে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং জ্ঞানভিত্তিক সেবা খাতের বিকাশ জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার স্টার্টআপ খাতে চলতি অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
চীনের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে সকলে মিলে কাজ করতে হবে। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে একটি জেলায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নেরও জন্য কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয় তার পদবিতে নয়, বরং কর্ম, সততাও উদ্ভাবনী চিন্তায়। মানুষের জীবন সহজ করা, সময়সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি কর্মকর্তাকে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণকরতে হবে।
উপদেষ্টা বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেএবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনসহ সবপর্যায়ের কর্মকর্তার আন্তরিকতা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা অপরিহার্য।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বললেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে প্রতিটি সংকটকে সুযোগে রূপ দিতে হবে। জ্ঞানচর্চা অব্যাহতরাখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজ যে সনদ তারা গ্রহণ করছেন, সেটি শিক্ষার সমাপ্তি নয়; বরং আজীবন শিক্ষার নতুন অভিযাত্রার সূচনা।




