নতুন পে-স্কেল
সরকারিদের ঘরে স্বস্তি বেসরকারিদের শঙ্কা
- বেতন বাড়ার খবরে বাজারে পড়ে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
- সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যবসায়ী বাড়ান পণ্যের দাম

সংগৃহীত ছবি
বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন। লাফিয়ে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া। সন্তানদের পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম অবস্থা। মধ্যবিত্তের জীবন বড্ড ওষ্ঠাগত। ঠিক এই কঠিন সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর। দীর্ঘ ১১ বছর পর আসছে নতুন বেতন কাঠামো। নতুন পে-স্কেলের খবর সরকারি দপ্তরে এনেছে স্বস্তির হাওয়া। তবে এই খুশির আলোয় ঢাকা পড়ছে অন্য এক অন্ধকার। সরকারিদের বেতন বাড়ার খবরে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বেসরকারি খাতের কোটি মানুষের কপালে। তাদের শঙ্কা, সরকারিদের বেতন বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে সব ধরনের খরচ। কিন্তু বেসরকারি খাতে বেতন বাড়বে না। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের টিকে থাকা আরও কঠিন হবে।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হলেও বেসরকারি চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তের একাংশের মধ্যে ভর করেছে বাসা ভাড়া, শিক্ষা, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কথা হয় রাজধানীর একটি সরকারি দপ্তরের ১৩তম গ্রেডের কর্মকর্তা মো. নবীর হোসেনের সঙ্গে। বর্তমান বেতন কাঠামোয় পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বলছিলেন, ‘২০১৫ সালের পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। বাজার, বাসা ভাড়া ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
‘নতুন বেতন কাঠামো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য আনার একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ’— দাবি নবীর হোসেনের।
নতুন পে-স্কেলের খবরে সরকারি চাকরিজীবী নবীর কিছুটা স্বস্তি পেলেও শঙ্কা কাটছে না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা খালেদ হাসানের। তার ভাষ্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো স্বাভাবিক হলেও এর প্রভাব যদি বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয়ের ওপর পড়ে, তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, তাদের বেতন বাড়বে না একই হারে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানালেন রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শামীম। জানালেন, গত কয়েক বছরে তার বেতন কিছুটা বাড়লেও বাজার খরচ, সন্তানদের স্কুল ফি, যাতায়াত ও বাসা ভাড়া অনেক বেড়েছে। নতুন করে ব্যয় বাড়লে মধ্যবিত্ত পরিবারের টিকে থাকা হয়ে পড়বে আরও কঠিন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরির কাছে। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, দীর্ঘদিন পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় কমেছে। তবে এ সুযোগে কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে বাসা ভাড়া বা পণ্যের দাম না বাড়াতে পারে, সেজন্য প্রয়োজন বাজার তদারকি জোরদার করা।




