বিক্ষোভের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি
শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) কাছে তিনজনের নাম চেয়েছে শ্রম অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের পরিচালক শামীমা সুলতানা বারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিইএফের মহাসচিবকে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বকেয়া বেতন পরিশোধ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই এমন উদ্যোগ নিল সরকার। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর উত্তরায় এসব দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকরা।
শ্রম অধিদপ্তরের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীতে উল্লিখিত ১৩৮ ধারার ২ ও ৪ উপধারা অনুযায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হবে। আইন অনুযায়ী বোর্ডে একজন নিরপেক্ষ সদস্য, মালিকপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং শ্রমিকপক্ষের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পদের বিপরীতে অন্তত তিনজন যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে হবে। তাদের পদবি, পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও জমা দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য বিইএফকে তিনজনের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ড বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নতুন বোর্ড গঠনের পর কোন কোন খাতের মজুরি পর্যালোচনা করা হবে এবং শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে শ্রম অধিদপ্তরের চিঠিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে চার দিন ধরে উত্তরার আজমপুর, রাজলক্ষ্মীসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন পোশাক খাতের শ্রমিকরা। শ্রমিকদের প্রধান দাবি— মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মজুরি বৃদ্ধি। গতকাল সকালেও একই দাবিতে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও সংলগ্ন সড়কগুলোয় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সড়ক ছেড়ে যেতে অনুরোধ করলে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। থানা-পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমেছেন।



