এমপি-মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পেজ অ্যাডমিন গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার শিশির মুন্না
রাজধানীতে প্রতারণার ফাঁদে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শিশির মুন্না (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শিশির মুন্না আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন।
পুলিশ বলছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় ফ্যাসিবাদের এই দোসর। কিছুদিন পর ফের দেশে ফিরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন শিশির মুন্না।
আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, কাতারে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশির মুন্না ও তার সহযোগীরা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নেন। পরে তারা ভুক্তভোগীকে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহ করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যবসায়ী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে টালবাহানা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।
ডিবি জানিয়েছে, ভুক্তভোগী এ ঘটনায় ডিবির সহায়তা চাইলে ওয়ারী বিভাগের একটি টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আরও ১৪-১৫ ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে মঙ্গলবার মধ্যেরাতে মতিঝিল থানার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় শিশির মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শিশির মুন্না সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন প্রমোশনাল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন শিশির মুন্না। এ ছাড়া ব্যবসায়িক বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিশির মুন্না কাতার চলে যান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ফিরে এসে আবারও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বললেন, গ্রেপ্তারকৃত শিশির মুন্না ভুক্তভোগীদের বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে নিজের সখ্যতার কথাও শোনাতেন। প্রমাণস্বরূপ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায়ও ডাকতেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানালেন, এই প্রতারণা চক্রে আরও চার-পাঁচজন যুক্ত। তাদের মধ্যে শিশির মুন্নার বোনও রয়েছেন, যিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে প্রতারণা কাজে সহায়তা করেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





