৬৪ জেলার ৩৮টিতেই নেই আইসিইউ : ডা. জুবাইদা
- ক্রিটিক্যাল কেয়ারের অবস্থা বিপর্যস্ত

ডা. জুবাইদা রহমান
বিগত ১৭ বছরের অবহেলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) অবস্থা বিপর্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. জুবাইদা উল্লেখ করেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮ জেলায় কোনো ধরনের আইসিইউ নেই। সংকল্প থাকলে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্রিটিক্যাল কেয়ারসংখ্যা বাড়ানো যায়, তাহলে দেশের মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আইসিইউ সেবার সংকট। বর্তমানে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড মাত্র ১.৭টি এবং সাধারণ হাসপাতাল শয্যা মাত্র ৯টি। এ ছাড়া দেশের মোট ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক।’
‘আমাদের দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। কিন্তু ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোয় কেন্দ্রীভূত। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন’— যোগ করেন তিনি।
সংকটের চিত্র তুলে ধরে ডা. জুবাইদা মন্তব্য করেন, ‘দেশে শুধু শয্যার অভাবই নয়, রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন–অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নিউরোলজিস্ট), দক্ষ নার্স ও বিশেষায়িত সরঞ্জামের তীব্র সংকট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সংকল্প নিতে হবে।’
উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলছিলেন, ‘গুরুতর রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যানবাহন একটি বড় অন্তরায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব না হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা সম্ভব। তাই প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করা জরুরি।’
এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান। বললেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অনেক পরিবারের আশার আলো বাঁচিয়ে রাখছেন।’
একটি মৃত্যুও যেন কোনো পরিবারকে সর্বস্বান্ত না করে, সেজন্য আগামীতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা সেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক অসহায় হয়ে পড়েন। সদর হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বাড়ানো গেলে কমবে মৃত্যুহার।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে এ মাস থেকে আনসার নিয়োগ শুরু হবে।
চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে থাকা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি। অপরদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলছিলেন, ৫৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট পেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। সরকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




