বিডব্লিউএমআরআইয়ের ৩৫ কর্মচারীর চাকরি সংকটে, হস্তক্ষেপ চান কৃষিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের নশিপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) ৩৫ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাদের বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কামনা করেছেন কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ।
ভুক্তভোগী কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘আউটসোর্সিং সেবাগ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’-এ আগের দক্ষ জনবল বহাল রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ৩৫টি সেবা খাতে অর্থ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ২৯ এপ্রিল বিডব্লিউএমআরআই কর্তৃপক্ষ একটি দপ্তর আদেশ জারি করে, যা ১৫ মে থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। আদেশের মাধ্যমে বর্তমান কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
কর্মচারীদের দাবি, ‘আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির মতামত ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-১ অধিশাখার নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর বিডব্লিউএমআরআই অস্থায়ী ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক সেবাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরে সরাসরি পদ্ধতিতে ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, পাম্প অপারেটর, স্যানিটারি মিস্ত্রি, ওয়েল্ডার, বাবুর্চি, মালী ও গেস্ট হাউজ অ্যাটেনডেন্টসহ বিভিন্ন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি যোগদান করেন এবং এরপর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও হতাশা।
কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্য, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এখন চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হবে। সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বর্তমান দক্ষ জনবলকে সরিয়ে নতুন ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে তারা কৃষিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বিতর্কিত দপ্তর আদেশ বাতিল, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ বহাল রাখা এবং পুরো বিষয়টি তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।




