যান্ত্রিক ত্রুটি সেরেছে, বিদ্যুৎ ফিরছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে এ বিভ্রাট দেখা দেয়।
মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইন বিকল হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম।
আর বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সংযোগ পুনর্বহালের কাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাকি এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
দুপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক কার্যক্রম।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। চট্টগ্রামের একটি অংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা আড়াইটার দিকে আগামীর সময়কে বিপর্যয়ের কারণ জানান বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, ‘মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইন বিকল হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।’
এরপর বিকাল ৩টায় বিদ্যুৎ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সংযোগ পুনর্বহালের কাজ চলছে।
‘এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও স্বল্প সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে’, বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
সর্বশেষ বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র চালু আছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিং।
এর আগে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে আকস্মিকভাবে এ বিপর্যয় ঘটে।
বর্তমানে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।
বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিডে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সুরক্ষার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একের পর এক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের বিপর্যয়ের পর পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা আগেও ঘটেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
সেবার বিভিন্ন এলাকায় ৩ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বরও বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো দেশ।




