ফ্যামিলি কার্ড থেকে বন্ধ কারখানা চালু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য সম্মানী কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ বাতিল করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব
ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ব্যবস্থাপনা সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’। গ্রামীণ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও নৌ যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে গতি
দেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে টেকনাফ-তেঁতুলিয়া ইকোনমিক করিডর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনায় ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও তরুণদের উন্নয়নে পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য খাতে হামের টিকাদান কার্যক্রমে প্রায় শতভাগ শিশুকে আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।
তরুণদের খেলাধুলা ও প্রতিভা বিকাশে ‘স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
কেবিনেট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি
১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০টি কেবিনেট সভায় ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে তিনটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও জানানো হয়েছে।
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারের রান্নার খরচ কমাতে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন আগামীর সময়কে বললেন, 'সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ১০০ দিনের নানা কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।'






