বাজেট ২০২৬-২৭
ঝুলে যাবে ৫৪ প্রকল্প
- বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে লাখ টাকা বা তারও কম
- এসব প্রকল্প ভবিষ্যতে গোদের ওপর বিষফোড়া হবে— সাবেক পরিকল্পনা সচিব

আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য বড় অঙ্কের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৩ লাখ কোটির মধ্য থেকে মাত্র ১ লাখ টাকা বা তারও কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৪টি প্রকল্পে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগুলোকে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বাঁচাটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে— অর্থাৎ মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির চক্করে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতি বছর এমন সামান্য বরাদ্দ দিয়ে রাখা প্রকল্পই এডিপির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তবে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগামী জুনে মেয়াদ শেষ হবে এমন বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং একেবারেই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এরকম দশা।
এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বললেন, সংশ্লিষ্টরা জানেন এসব প্রকল্পে করার কিছু নেই। তবে ভবিষ্যতে কাজ হতে পারে। তাই এডিপিতে কেবল নাম রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়; কিন্তু এটা উচিত নয়। কেননা শেষ পর্যন্ত এ প্রকল্পগুলোই গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়। টেনে লম্বা করায় বাড়তে পারে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়। সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে। তিনি আরও বললেন, এডিপি মানেই একটি পরিকল্পিত বাজেট। সেখানে এমন অপরিকল্পিত বরাদ্দ কাম্য নয়।
এডিপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে বাস্তবায়ন হচ্ছে ‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট’ প্রকল্পটি। এটির মোট ব্যয় ২৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ থেকে চলে আসা প্রকল্পটিতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৮১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮৮ কোটি টাকা। এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী জুন মাসে। কিন্তু সংশোধন বা মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। ফলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা প্রচল’ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির আওতায় গত বছরের জুন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা, এবার মিলেছে মাত্র ১ লাখ। তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। ২০১২ সাল থেকে চলা প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী জুন মাসে। এজন্য বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা। একই অবস্থা বিরাজ করছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ শিশু কার্ডিওলজি শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপন প্রকল্পেও।
লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া আরও কয়েকটি প্রকল্প: আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে। এ ছাড়া চরফ্যাশন উপজেলায় বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, ঢাকা ওয়াসার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন, ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর জন্য বেলারুশ থেকে মেশিনারিজ ও যন্ত্রপানি ক্রয় এবং নেত্রকোনা পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। আরও আছে, হিলি-বুড়িমারী ও বাংলাবান্দায় এলসি স্টেশন নির্মাণ, যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ, আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং শস্যগুদাম আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাইজেশন প্রকল্প।




