আজ-কালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহে উন্নতির আশা
- শনিবার নাগাদ গ্যাস সরবরাহ বাড়বে ৩০ থেকে ৪০ কোটি ঘনফুট
- পুরো স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ৫-৬ দিন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউটি) ত্রুটির কারণে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলা ভয়াবহ গ্যাসসংকটের বিষয়ে ‘কিছুটা’ সুখবর দিল পেট্রোবাংলা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার বা আগামীকাল শনিবার এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ-ছয় দিন সময় লাগবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন কর্মকর্তা আগামীর সময়কে এমন তথ্যই দিলেন। তিনি বললেন, ‘এফএসআরইউটি সচল করতে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে শুক্র-শনিবার নাগাদ দৈনিক ৩০-৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছি। টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত করে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহে অপেক্ষা করতে হবে আরও পাঁচ-ছয় দিন।’
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি ঘনফুট। যার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় কমবেশি ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে আসে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার এলএনজি টার্মিনালটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং ৫০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার অন্য টার্মিনালটি পরিচালনা করে সামিট। ২১ জুলাই এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালটিতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অন্য একটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২১০ কোটি ঘনফুটে নামে। যার প্রভাবে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ সব খাতে ভয়াবহ গ্যাসসংকট শুরু হয়েছে।
টার্মিনালে ওই দুর্ঘটনার পর জরুরিভিত্তিতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে ২৩ জুলাই থেকে মেরামত কাজ শুরু করেছে।
চলমান গ্যাসসংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তার সহযোগিতা চেয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের এই সংকট সমাধানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
গ্যাসসংকট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। জনগণের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এলএনজি টার্মিনালটি সচল করার চেষ্টা চলছে।’ অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করে বাড়তি ব্যয়ে কোনোমতে রান্না করছেন। কেউবা ব্যবহার করছেন লাকড়ির চুলা। আবার কেউ কেউ রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
শিল্পকারখানাতেও বড় সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ যানবাহনের লাইন দেখা যাচ্ছে কয়েক দিন ধরে। সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকের আয় কমে গেছে, গ্যাসের অভাবে পথে কমেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা। গ্যাস সংকটের প্রভাবে বিদ্যুতের উৎপাদনও কমে গেছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।




