পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ সরকারের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী তিন অর্থবছরে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে এ বরাদ্দ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে ১১টি কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি অর্থবছর থেকে ৯ ধরনের কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে এসব উদ্যোগ।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বিদ্যমান চাপকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অর্থবছরের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানালেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে পরিবহন ও যোগাযোগ সেক্টরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পরিমাণ ৫০ হাজার ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।
পরিকল্পনা বিভাগ বলছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। একটি দক্ষ, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আগামী তিন অর্থবছরের বরাদ্দের প্রক্ষেপণ
পরিকল্পনা বিভাগ থেকে আগামী তিন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দের যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, তা হলো- ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সেটি বাড়িয়ে বরাদ্দ দেওয়া হবে ৬৬ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা।
১১টি কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্য
সরকারের পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো হলো- জাতীয়, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ পর্যায়ে সমন্বিত ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও সংযোগ সম্প্রসারণ করা। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও দক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যানজট নিরসন এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
এ ছাড়া, রেলভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ডাবল-ট্র্যাক নির্মাণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্য সংরক্ষণ, নৌবন্দর উন্নয়ন এবং উপকূলীয় ও আঞ্চলিক নৌ-সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অন্যদিকে, বন্দরগুলোর অবকাঠামো ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কার্গো পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর সঙ্গে রয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সংযোগ জোরদারকরণ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সেবা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রধিকার দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জাতীয় ও আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণে মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ এবং প্রশস্তকরণ, যানজট নিরসন ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং গণপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন করা।
এ ছাড়া ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় বিভিন্ন রুটে মেট্রোরেল নির্মাণকাজ ত্বরান্বিতকরণসহ নগর গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, নতুন রেললাইন নির্মাণ, ডাবল-ট্র্যাক স্থাপন, বিদ্যমান রেললাইন সংস্কার, সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সংগ্রহ করা।
আরও আছে, নৌ-পরিবহনে নাব্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদারকরণ, নদীবন্দর উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অবকাঠামো ও পরিচালন সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগ জোরদার, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কার্গো পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন এবং বিমানবন্দর অবকাঠামোর সম্প্রসারণ।









