২৬১ কোটি টাকা খরচই করা গেল না বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নানা জটিলতায় টাকা খরচ করা যাচ্ছে না ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন কার্যক্রমে। ফলে ‘ডিপিডিসি’র আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্প থেকে বাদ যাচ্ছে ২৬১ কোটি ৮১ লাখ টাকার বরাদ্দ। এরই মধ্যে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বিষয়টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের
এ বিষয়ে পরিকল্পনাসচিব এস এম শাকিল আখতার আগামীর সময়কে বলেছেন, ছোটখাটো সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের এখতিয়ার পরিকল্পনামন্ত্রীর। তবে নিয়ম অনুযায়ী আমরা একনেককে অবহিত করব। এটা সবসময়ই করা হয়ে থাকে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, প্রকল্পের জটিলতা থাকায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, ডিপিডিসির প্রকল্প এলাকা হলো রাজধানীর উত্তরে শ্যামলী, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত। এ ছাড়া দক্ষিণ ও পূর্বে বুড়িগঙ্গা নদী এবং পশ্চিমে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে তুরাগ নদী ও বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এবং নারায়ণগঞ্জ শহর।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এরপর প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মাঝে একটি বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২ হাজার ২৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এখন দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২৬১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৯৭০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
এদিকে প্রকল্পটির অনুমোদিত মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ সাড়ে তিন বছর। এরপর দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, গত ১ জুলাই।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিপিডিসির আওতাধীন পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন জোনের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল প্রকল্পটির উদ্দেশ্য। এ ছাড়া ডিপিডিসির আওতাধীন দুই জেলা (ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে বাণিজ্যিক সেবা প্রদানও ছিল প্রকল্পের লক্ষ্য। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করা, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা মালামালের পরিমাণ কমেছে। ফলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সিডি-ভ্যাটে ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনকাজে স্থানীয় বাধা, রিনোভেশন কাজ বাস্তবায়নে শাটডাউন প্রাপ্তিতে জটিলতা, ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনে ডিএসসিসি, ডিএনসিসি, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সড়ক খননের অনুমোদন না পাওয়া কিংবা দেরিতে পাওয়া, সরু গলিতে ট্রান্সফরমার স্টিল পোল স্থাপন বাস্তবসম্মত না হওয়া, কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতায় মালামাল সরবরাহে দেরিসহ নানা কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু প্রধান মালামালের স্কোপ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মালামালের পরিমাণ কমেছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভার সুপারিশ অনুযায়ী ২ হাজারটি এসপিসি পোল, ২৯৭টি ট্রান্সফরমার স্টিল পোল, ৫১৯ কিলোমিটার গুগ ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর, ৭৯৩ কিলোমিটার মারলিন কন্ডাক্টর, ১ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটার ওয়াসপ কন্ডাক্টর, ৮১ কিলোমিটার ৩০০ বর্গমিমি কপার কেবল এবং ৪৯ কিলোমিটার ১২০ বর্গমিমি এরিয়াল বান্ডেল কেবল কমানো হয়েছে। এসব মালামালের পরিমাণ কমানো (ডি-স্কোপিং) হওয়ায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও সিডি-ভ্যাট খাতে ব্যয়ও কমেছে।
টাকা খরচ করতে না পারার আরও কারণ—
লাইন ও তার (বৈদ্যুতিক নির্মাণ বা স্থাপনকাজ) খাতে ব্যয় কমা
প্রকল্পের মালামাল ডি-স্কোপিং করা হয়েছে। তাই সেসব মালামালের বিপরীতে লাইন ও তার খাতে ব্যয় কমেছে।
রোড কাটিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পূর্তকাজ সমন্বয় খাতে ব্যয় কমা
সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সড়ক খননের অনুমোদন না পাওয়া এবং মালামালের ডি-স্কোপিংয়ের ফলে ভূগর্ভস্থ কেবলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রোড কাটিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পূর্তকাজ সমন্বয় খাতে ব্যয় কমেছে।
বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমা
গাড়ি কেনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৬টি মোটরসাইকেল কেনা হয়নি। ফলে মোটরযান ক্রয় খাতে ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া আগে সমাপ্ত একটি প্রকল্পের দপ্তর চলমান প্রকল্পের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ খাতে ব্যয় করা হয়নি। অর্থাৎ অফিস ভবন ভাড়া খাতে ১ কোটি টাকা, ডাক খাতে ৪২ লাখ টাকা, টেলিফোন খাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ইন্টারনেট/ফ্যাক্স/টেলেক্স খাতে সাড়ে ৬ লাখ টাকা, নিবন্ধন ফি খাতে ৬ লাখ টাকা, পানি খাতে ৬৮ হাজার টাকা, পেট্রোল, ওয়েল অ্যান্ড লুব্রিক্যান্ট খাতে ৬৫ লাখ টাকা, ব্যাংক চার্জ খাতে ৪ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমেছে।








