আ.লীগ ছাড়া সবাই মাঠে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে মাঠে নামতে পারেননি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের ঝটিকা মিছিল বা বিক্ষোভ চোখে পড়েনি। যদিও আগের রাত পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ছিল নানা আলোচনা। আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নামবে, এমন প্রচারও ছিল। তবে দিনভর তার কিছুই দেখা যায়নি। বরং ঢাকাসহ সারা দেশেই রাজনীতির মাঠ দখলে রেখেছিলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারা দেশে আনন্দ মিছিল, র্যালিসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা এসেছিল আওয়ামী লীগের তরফ থেকে। আর ‘ফ্যাসিস্ট দলের’ এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দিনটি ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে ছিল পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি। সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশাপাশি রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে ঢাকা ছিল স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কোনো আতঙ্ক দেখা যায়নি।
মাঠে ছিল বিএনপি: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য ঘোষণা দিয়েই দেশ জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ রাজ্জাক আগামীর সময়কে বললেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যেকোনো অপকর্ম রুখতে মহানগর উত্তর বিএনপি ও বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে ছিলেন।’
সরব জামায়াতসহ ১১ দল: ঢাকার বিজয়নগরে আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বললেন, ‘আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও কথা বললেন একই সুরে। তার ভাষ্য, জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম-খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে এই সরকারও মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।
সাংবাদিকের ওপর হামলা: সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াত। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের কথা বলার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মী সকালের সময়ের প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান শিশিরকে মারধর করেন। অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি।
দুদিনে গ্রেপ্তার ৪৪ নেতাকর্মী: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী জানালেন, গতকাল আলাদা অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।




