শিখরে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি ফিরলেন শিকড়ের মানুষের কাছে

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
শিখরে পৌঁছে ফিরলেন শিকড়ের মানুষের কাছে। যে মাটিতে শৈশব-কৈশোর কেটেছে, যে শহরের অলিগলিতে বেড়ে উঠেছেন, সেই প্রিয় ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজ জেলা সফরের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছুটে গেলেন সেনুয়া গোরস্তানে, মা-বাবার কবরের পাশে। সেখানে ফাতিহা পাঠ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন তিনি।
গতকাল রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মা-বাবার কবর জিয়ারত শেষে তিনি যান শহরের কালীবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে। সেখানে দুপুরের খাবার খান এবং কিছু সময় অবস্থান করেন।
বেলা সাড়ে ৩টায় সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। সার্কিট হাউজ থেকে সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার পথেও রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে মানুষ হাত নেড়ে ও বিভিন্নভাবে তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর। নিজের বক্তব্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বললেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নেই। তাই লোকরা কাজও পান না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।’
ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘আমরা আশা করছি, এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগির কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’ তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বললেন রাষ্ট্রপতি। সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে সম্প্রীতি ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে শান্তির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন তিনি। ধর্মীয় বিভেদ ভুলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘সংঘাতে না জড়ালে সব রাজনৈতিক দলকেই রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে।’ এ সময় তরুণদের মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি। তাদের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।





