মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ট্যাক্স ফাঁকি। থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ থেকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড দেশ— সবখানেই আছে কর ফাঁকি দেওয়া মানুষের উপস্থিতি। তাদের ধরতে এবং সঠিক উপায়ে আইনের আওতায় আনতে প্রাচীন যুগ থেকেই নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে সরকার পক্ষ। তবে সবাইকে খুঁজে খুঁজে তাদের দ্বারে দ্বারে নোটিস নিয়ে যাওয়া এক বড় প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে এই কঠিন কাজ সহজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ২০৭০ সালে ট্যাক্স বা কর শুধু রাজনৈতিক বিষয়ই থাকবে না। এটির সঙ্গে যুক্ত হবে ডেটা যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ। ৪৪ বছর পরের এমন পূর্বাভাস ২০২৩ সালে দেওয়া হয় কানাডার কুয়ান্টামরান ফোর্সাইট ওয়েবসাইটে।
প্রযুক্তির ব্যবহারে ভবিষ্যতে কর জমা দেওয়ার পদ্ধতি হতে পারে সহজ। কর নীতি স্বয়ংক্রিয় করা একটি জটিল এবং প্রায়ই বিতর্কিত বিষয় বলে উল্লেখ করা হয় ওয়েবসাইটটিতে। তবে বিষয়টিকে কম রাজনৈতিক ও অধিকতর তথ্যনির্ভর করতেই মূলত ব্যবহার হবে এআই। পদ্ধতিটি সবার জন্য ন্যায্য হবে বলেও জানায় কুয়ান্টামরান ফোর্সাইট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রযুক্তি পারবে কর-সংক্রান্ত নথিপত্র একত্র ও সমন্বিত করতে। সঙ্গে সক্ষম হবে কর দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। এতে করে আইন প্রয়োগ ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জনগণের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কর ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। চীন এরই মধ্যে ২০২৭ সালেই কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে ধনী ব্যক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কর ফাঁকির বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে চীনা সরকার। ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেলসফোর্স সফটওয়্যার তৈরি করেছে ‘এআই ইকোনমিস্ট’ নামে একটি টুল। এটি বানানো হয়েছে ন্যায্য কর নীতি অনুসন্ধান করতে। তবে সম্ভাবনাময় হলেও এই প্রযুক্তিটি জনসাধারণের নজরদারি বৃদ্ধি এবং ধনী ব্যক্তি ও করপোরেশনগুলোর প্রতিরোধের মতো উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যারা কর ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়করণের বিরুদ্ধে করতে পারেন লড়াই।





