এবং!

টিভির খবরে উপস্থাপকের ভারী গলা, চোখে বিষাদ— ‘আরেকটি শিশু ধর্ষণের পর হত্যা...’ চায়ের কাপ হাতে জনৈক দর্শক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং নাশতার টেবিলে বসে গেলেন! কারণ অফিসে যেতে হবে, জীবন তো আর থেমে থাকে না।
পাশের ঘরে সাত বছরের ছোট্ট শিশু স্কুলড্রেস পরে দাঁড়িয়ে। তার মা প্রতিদিনের মতো আজও বলে দিচ্ছেন— ‘কারও সঙ্গে কথা বলবে না কিন্তু; কেউ চকলেট দিলে নেবে না; কেউ ডাকলে একা কোথাও যাবে না; সব দিকে খেয়াল রাখবে...।’
শিশুটির অবাক জিজ্ঞাসা, ‘মা, সবাই খারাপ?’ মা একটু আটকালেন। তারপর বললেন, ‘না মা... সবাই খারাপ না।’
মেয়ে স্কুলে গেল। আর মা ফেসবুকে লিখলেন— ‘এই সমাজে বেঁচে থাকতে ভয় লাগে। #Justice’ পাঁচশ রিঅ্যাক্ট; একশ শেয়ার; দশটা আগুন ইমোজি এবং যথারীতি দুই ঘণ্টা পর নতুন ট্রেন্ড— ‘এক নায়িকার বিয়ে’।
দেশের কিছু মানুষ এখন অদ্ভুত নিয়মে চলছেন। তারা শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে সিসিটিভির ফুটেজ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ঘটনা ঘটার পর সবাই দৌড়ায়— কেউ মাইকের দিকে, কেউ প্রেস ব্রিফিংয়ের দিকে আর কেউ ‘এক্সক্লুসিভ’ ব্যানারের দিকে। শুধু শিশুটির মা দৌড়ান হাসপাতালের করিডরে। কারণ, তার কাছে ক্যামেরা নেই, আছে শুধু একটা নিথর শরীর।
এরপর? এরপর আসল ‘নাটক’। টকশো বসে, বিশেষজ্ঞ আসেন। কেউ বলেন পর্নোগ্রাফি দায়ী, কেউ বলেন পাশ্চাত্য সংস্কৃতি দায়ী, কেউ আবার বিরোধী দলকে দায়ী করে ফেলেন!
এবং অবশ্যই কয়েকজন বিজ্ঞ লোক প্রশ্ন তোলেন— ‘বাচ্চাটা ওই জায়গায় গেল কেন?’ ‘অভিভাবকরা খেয়াল রাখেনি?’ মানে, দেশে এখন ধর্ষকের চেয়ে অভিভাবকদেরই বেশি সতর্ক থাকতে হয় আরকি।
অথচ ধর্ষক? সে খুব আরামে থাকে। কারণ সে জানে, এই দেশে স্মৃতির আয়ু ফ্রিজের বরফের মতো— দুদিন পরই গলে যায়। কিছুদিন পর পুলিশ একজনকে ধরে। সাংবাদিকরা ছবি তোলেন। ‘ক্ষমতা’ বলে ওঠে, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তারপর? তারপর, মামলার ফাইল ধীরে ধীরে এমন এক ঘুমে চলে যায়, যেখান থেকে সাধারণত আর জাগা হয় না। এরই মধ্যে ছোট্ট শিশুটি বড় হতে থাকে। সে এখন রাস্তায় কাউকে বিশ্বাস করে না।






