চাকরি ছেড়ে চালের ব্যবসা, বছরে আয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা

প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কুইন্টাল বা ২০ হাজার কেজি চাল বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়। ছবি: এনডিটিভি
প্রতিষ্ঠিত আইটি কোম্পানির চাকরির সুযোগ পেয়েও তা ফিরিয়ে দেন এক ভারতীয় তরুণ। সেই সিদ্ধান্তকে তখন ভুল বলেছিলেন অনেকে। তবে চাকরি বাদ দিয়ে তিনি বেছে নেন চালের ব্যবসা।
এখন সেই ব্যবসা থেকেই বছরে আয় প্রায় ২৫ লাখ রুপি বা বাংলাদেশের প্রায় ৩২ লাখ টাকা। তার এই গল্পই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
এই গল্পটি শেয়ার করেন এক্স ব্যবহারকারী অঙ্কিত পাণ্ডে। তার দাবি, তার এক বন্ধু ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসে (টিসিএস) চাকরির সুযোগ পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সে সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, নিশ্চিত করপোরেট চাকরি ছেড়ে তিনি বড় ভুল করছেন। কিন্তু তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেন। বিভিন্ন গ্রাম ও রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি চাল সংগ্রহ করে শুরু করেন নিজের ব্যবসা।
পাণ্ডের দাবি অনুযায়ী, ওই উদ্যোক্তা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি চাল কিনে তা পরিষ্কার ও নিজস্ব ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করেন। এরপর প্রায় ২০০টি খুচরা দোকানে সরবরাহ করেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে এবং স্থায়ী খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তিনি দাঁড় করিয়েছেন লাভজনক ও টেকসই ব্যবসা।
পাণ্ডে তার পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন ব্যবসার মডেলও। তার তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৩৫ রুপি বা ৪৫ টাকায় কেনা হয়। প্যাকেটজাত করতে খরচ হয় ৩ রুপি বা ৪ টাকা এবং পরিবহন ব্যয় ২ রুপি বা ৩ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে মোট খরচ দাঁড়ায় ৪০ রুপি বা ৫১ টাকায়।
এরপর ওই চাল খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি কেজি ৫০ রুপি ৬৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। খুচরা বিক্রেতারা তা গ্রাহকদের কাছে ৫৫ থেকে ৫৭ রুপি ৭০ থেকে ৭৩ টাকায় বিক্রি করেন। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ রুপি বা ১৩ লাভ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পাণ্ডের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কুইন্টাল বা ২০ হাজার কেজি চাল বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়। এই হিসাব অনুযায়ী, তার বন্ধুর বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা।
তবে পোস্টে উল্লেখ করা আর্থিক হিসাব ও ব্যবসার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তারপরও এই গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং করপোরেট চাকরিই সফলতার একমাত্র পথ কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘জীবনের নিয়ম খুবই সহজ। ঝুঁকি যত বড়, লাভের সম্ভাবনাও তত বেশি।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘ডিগ্রি থাক বা না থাক, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলে বাস্তব অর্থনীতির সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সাধারণ করপোরেট বেতনের চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য পাওয়া সম্ভব।’
তৃতীয় একজন লিখেছেন, ‘সবকিছুই নির্ভর করে ঝুঁকি নেওয়া এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়ার ওপর। যারা সাহস করে, তারাই সফল হয়।’
আরেকজনের মন্তব্য, ‘বিষয়টি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। নিজের ব্যবসায় অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হয়। ব্যবসা থেকে লাভ করা টিসিএসের চাকরির বেতন পাওয়ার চেয়ে অনেক কঠিন।’
সূত্র: এনডিটিভি





