সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একসময় চিঠি ছিল খবরের সবচেয়ে বড় বাহন। ডাকপিয়ন বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেই বুকের ভেতর কেমন যেন ধুকপুক শুরু হতো। চিঠি কার? প্রেমের, নাকি চাকরির? আর যদি খামের ওপর সুন্দর হাতের লেখা থাকত, তাহলে তো কথাই ছিল না— চিঠি খোলার আগেই মনের মধ্যে সিনেমার গান বাজতে শুরু করত তখন!
ডাকপিয়নদেরও তখন আলাদা সম্মান ছিল। তারা শুধু চিঠি দিতেন না, সঙ্গে নিয়ে আসতেন সুসংবাদ, দুঃসংবাদ, প্রেমের প্রস্তাব, পরীক্ষার ফল— এমনকি শ্বশুরবাড়ির খবরও! চিঠির আবার আলাদা একটা রোমান্স ছিল। সুন্দর হাতের লেখা দেখলেই মনে হতো, ‘এই মানুষটা নিশ্চয়ই ভালো!’ এখন সেই জায়গা নিয়েছে টাইপ করা ‘হাই’। প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগকে দ্রুত করেছে, ঠিকই। কিন্তু চিঠি আমাদের শিখিয়েছিল— রিপ্লাই দেরি হলেও অনুভূতিটা যেন দেরি না হয়!
এখন যুগ বদলেছে। ডাকপিয়নের জায়গা নিয়েছে মোবাইলের নোটিফিকেশন। আগে চিঠি আসতে সাত থেকে ১৫ দিন সময় লাগত, এখন ‘হাই’ লিখে রিপ্লাই না পেলে ৭ মিনিটেই মানুষ অস্থির হয়ে যায়।
আগে প্রেমিক-প্রেমিকারা চিঠি লিখে অপেক্ষা করত। এখন ‘সিন’ দেখেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়ে যায়। আগে চিঠির খাম লুকিয়ে রাখা হতো, এখন চ্যাটের স্ক্রিনশট লুকিয়ে রাখতে হয়!
তবুও ডাকবাক্স দেখলে মনটা কেমন নরম হয়ে যায়। ডাকবাক্স দেখলে মায়া লাগে। আহা, বেচারা ডাকবাক্স! মনে হয়, তার ভেতরে হয়তো এখনো কোনো চিঠি অপেক্ষা করছে— যে চিঠিতে লেখা নেই ‘ডিয়ার’, নেই কোনো ইমোজি; আছে শুধু কয়েকটি আন্তরিক শব্দ।
ডাক দিবসে তাই ডাকবাক্সকে সালাম। কারণ প্রযুক্তি আমাদের দ্রুত করেছে; কিন্তু চিঠিই শিখিয়েছিল— অপেক্ষারও একটা নিজস্ব আনন্দ আছে! সেই আনন্দ আর এখন উপভোগ করা হয় না।



