অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা অতিভারী বর্ষণে ডুবেছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা। ভারী বর্ষণে দেয়াল ও পাহাড়ধসে তিন দিনে তিন জেলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা।
অথচ টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করে পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিংও করেছিল প্রশাসন। কিন্তু বেশিরভাগ এলাকার লোকজন ঝুঁকি নিয়ে ছিল নিজের ঘরেই।
ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব মৃত্যুর ঘটনা দিশাহারা করে দিয়েছে কয়েকটি পরিবারকে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় পাহাড়ধসের আশঙ্কা। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১২৭ জন মারা যাওয়ার পর ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়াতে বসতি উচ্ছেদ, পুনর্বাসনসহ ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। এ ছাড়া ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৭০ মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশ ছিল। অথচ এগুলোর বেশিরভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতি বছর পাহাড়ে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা। আর বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
মূল সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে প্রতি বছর বর্ষা এলে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মনোযোগী হয় প্রশাসন। এজন্য মাইকিং করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রশাসনের এসব নির্দেশনা বাসিন্দারা কানে তোলেন না। ফলে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছেই।
সুপারিশ বাস্তবায়ন না করা, স্থায়ী উচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনার কারণে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়ে চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, রাস্তাঘাট, শৌচাগার নির্মাণসহ নানা সুযোগ-সুবিধার আওতায় এনে পাহাড়ে বসতি বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হয়। তাই দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে।




