অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘বাংলার টেসলা’ বনাম ‘বাংলা গাড়ি’ এটা নতুন আবিষ্কার। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা ইদানীং প্যাডেলচালিত রিকশাকে ‘বাংলা গাড়ি’ বলে ডাকেন। ঢাকার রাস্তায় এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার! আগে প্যাডেলচালিত রিকশাই ছিল আমাদের ভরসা, এখন এসেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, এদের দাপটে অস্থির ঢাকাবাসীসহ সারা দেশ। আমরা অটোরিকশাকে আদর করে বলতে পারি— ‘বাংলার টেসলা’। এদের অদম্য গতি-সাহস দেখে আমরা ভিরমি খাই হরহামেশা। তবে এই টেসলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর গতি দেখে মনে হয়, চালক অলিম্পিকে যাচ্ছেন। সামনে বাস-প্রাইভেট কার, পাশে মোটরসাইকেল— কিছুই সমস্যা নয়। কাউকে তোয়াক্কা করেন না তারা। চালকের আত্মবিশ্বাস এমন, যেন পুরো ঢাকা শহরের রাস্তার মালিকানা তার নামে। সে যেন রাস্তার নতুন রাজা! ট্রাফিক সিগন্যাল? সেটা আবার কী জিনিস! লাল বাতি দেখলে কেউ থামেন, কেউ তাকান, আর বাংলার টেসলা চালকরা মনে মনে বলেন, ‘ভাই, বাতিটা নিশ্চয়ই অন্য রাস্তার জন্য।’ আর ‘বাংলা গাড়ি’ চালকরা? তারা প্যাডেল ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে চলেন। বাংলার টেসলা তাদের পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়ার সময় এমনভাবে তাকান, যেন বাংলা গাড়ি আর টেসলার মধ্যে বহু বছরের পারিবারিক শত্রুতা। আবার যাওয়ার সময় একটু কটু কথা বলতেও যেন ছাড়েন না। ‘এই টান টান, কী খাইছো সকালে, বউ ভাত দেয় নায় আজ?’ সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, রাস্তায় দুর্ঘটনা হলে সবাই অবাক হয়ে বলেন, ‘এটা হলো কীভাবে?’ অথচ কয়েক মিনিট আগেই তিনটি গাড়ি একসঙ্গে একই জায়গায় ঢোকার চেষ্টা করেছে! ঢাকার রাস্তা এখন এমন এক জায়গা, যেখানে পথচারী হাঁটেন ভাগ্য নিয়ে, রিকশাচালক চালান সাহস নিয়ে, আর বাংলার টেসলাচালক চালান আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তাই ঢাকার নাগরিকদের নতুন স্লোগান হতে পারে— ‘রাস্তা সবার, কিন্তু শাসন করবে বাংলার টেসলা!’



