হতেও পারে

অন্ধকার রাতের শেষ প্রহরে যখন সব নীরব, ঠিক তখনই শোনা যায় অদৃশ্য যন্ত্রের গুঞ্জন। সে শব্দ কোনো বিশাল মেশিনের নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)। সুইডেনের দার্শনিক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিক বোস্ট্রমের দেখা ভবিষ্যতে আছে এমন এক পৃথিবী, যেখানে নেই কাজে উপস্থিত হওয়ার তাড়া। নেই অভাবের যন্ত্রণা বা সংঘাতের ভয়। কেননা পৃথিবী চলছে এআইর ওপর ভর করে। নিকের বই ‘ডিপ ইউটোপিয়া’ বা গভীর সুখের রাজ্যের ধারণা ঠিক এমনই এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনায় ভরা। বইটিতে তিনি আলোচনা করেছেন এআই জগতে বসবাস করা মানবজাতির ইতিবাচক সবদিক নিয়ে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালে নিকের সাক্ষাৎকার নেয় যুক্তরাষ্ট্রের মাল্টিমিডিয়া ওয়েবপোর্টাল বিগ থিংক।
ভবিষ্যৎ নিয়ে নিকের কাছে আছে একাধিক সুখবর। তার মতে, আসছে বিশ্বে কোনো প্রয়োজন থাকবে না সম্পদ নিয়ে সংঘাতের। তার দৃষ্টিতে, ভবিষ্যৎ হলো প্রাচুর্যময়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একদিন দূর করতে পারে সব ধরনের অভাব। জ্বালানি বা অন্যান্য সম্পদের জন্য ভবিষ্যতে আর লড়াই হবে না দেশে দেশে। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তি এমন এক বিশাল সমৃদ্ধির যুগ আনতে পারে, যেখানে প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন সহজেই পূরণ হবে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিকর কাজগুলো চলে যাবে যন্ত্রের হাতে। তবে এই পরিবর্তন হঠাৎ হবে না। হবে ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে। মানুষের হাতে তখন থাকবে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, যা হলো সময়। ভবিষ্যতে মানুষ কাজের পেছনে নয়, বরং আনন্দ ও অর্থপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারে তাদের সময়। জীবন সে সময় শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং হবে প্রকৃত আনন্দ উপভোগের সময়। নিকের মতে, এই পরিবর্তন শুধু বড় যুদ্ধ বন্ধ করবে না। এটি দূর করবে দৈনন্দিন জীবনের ছোট যন্ত্রণা, বিরক্তি ও শারীরিক অস্বস্তি। নিকের ধারণা, মানুষ ভবিষ্যতে অর্থের পেছনে ছুটবে না। তারা মনোযোগ দেবে জ্ঞান ও শিল্পের উন্নতিতে।



