৭৫ ইউনিটে আপনি কী কী চালাতে পারবেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিদ্যুতের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য দাম বাড়ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে যারা মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারা আপাতত আগের দরেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ দিয়ে একটি পরিবার আসলে কী কী চালাতে পারে?
বিদ্যুতের হিসাবে ১ ইউনিট মানে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। অর্থাৎ ১ হাজার ওয়াটের কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চালালে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সে হিসাবে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খুব বেশি নয়। তবে সচেতনভাবে ব্যবহার করলে একটি ছোট বা নিম্ন আয়ের পরিবার প্রয়োজনীয় কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে পারে।
সাধারণভাবে একটি পরিবারে যদি ২ থেকে ৩টি এলইডি বাতি, ১ থেকে ২টি ফ্যান, মোবাইল চার্জার, ছোট টেলিভিশন এবং প্রয়োজনে ছোট ফ্রিজ থাকে, তাহলে হিসাব করে ব্যবহার করলে মাসে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে থাকা সম্ভব। তবে এজন্য অপ্রয়োজনীয় বাতি-ফ্যান বন্ধ রাখা, দিনের আলো ব্যবহার করা এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে এমন যন্ত্র এড়িয়ে চলা জরুরি।
একটি ৯ থেকে ১২ ওয়াটের এলইডি বাতি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা চালালে মাসে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। এমন ৩টি বাতি ব্যবহার করলে মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগতে পারে। তাই কম বিদ্যুৎ খরচের এলইডি বাতি ৭৫ ইউনিটের মধ্যে থাকার জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
ফ্যানের ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক বেশি। একটি সাধারণ ফ্যান প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চালালে মাসে আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। দুটি ফ্যান ব্যবহার করলে মাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ ইউনিট পর্যন্ত লাগতে পারে। ফলে ৭৫ ইউনিটের গ্রাহকদের জন্য ফ্যান ব্যবহারে কিছুটা হিসাব রাখা প্রয়োজন।
মোবাইল চার্জের খরচ তুলনামূলক খুব কম। পরিবারের কয়েকটি মোবাইল নিয়মিত চার্জ দিলেও মাসে সাধারণত ১ থেকে ২ ইউনিটের বেশি খরচ হয় না। একইভাবে একটি ছোট টিভি প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা চালালে মাসে প্রায় ৬ থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।
ফ্রিজ থাকলে হিসাব আরও সতর্কভাবে করতে হবে। একটি ছোট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ মাসে প্রায় ২০ থেকে ৪০ ইউনিট বা তারও বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। ফ্রিজ পুরনো হলে বা বারবার দরজা খোলা হলে খরচ আরও বাড়তে পারে। তাই ৭৫ ইউনিটের মধ্যে থাকতে চাইলে ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি।
তবে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুতে এসি, ইলেকট্রিক হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক চুলা, আয়রন বা ওয়াশিং মেশিন নিয়মিত চালানো বাস্তবসম্মত নয়। এসব যন্ত্র অল্প সময়েই অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে। বিশেষ করে এসি চালালে মাসিক ব্যবহার ৭৫ ইউনিট ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি।
বিইআরসির আগের ঘোষণায় আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট দর ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল। আর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট দর ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা ঘোষণা করা হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি নিম্ন ব্যবহারের এই দুই ধাপে বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে আগের মূল্যহার বহাল রাখে।
বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, লাইফলাইন ও নিম্ন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ পড়লে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে পিডিবির প্রস্তাবের আলোকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য আগের দাম বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




