হতেও পারে

নিস্তব্ধ মহাকাশের গভীরে ভেসে আছে এক রুপালি ছায়া। চাঁদে বাসস্থান গড়েছে মানবজাতি। সঙ্গে মঙ্গলে বানিয়েছে ভ্রমণের নানা নিদর্শন। পৃথিবীর উত্তপ্ত নিঃশ্বাসকে ঠান্ডা করতে সূর্যের আলো আটকাচ্ছে বিশাল এক পর্দা। চোখের পলকে মহাকাশযান ছুটে চলেছে পৃথিবী, চাঁদ এবং মঙ্গলের মাঝ দিয়ে। সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসে মহাকাশের বর্ণনা মনে হলেও এই চিত্র ২০৪০ সালের। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে ভবিষ্যতে মহাকাশ প্রায় জয় করে ফেলেছেন বিজ্ঞানী দল। চন্দ্র, মঙ্গল সব তো হলো, মহাকাশের অজানা তাহলে আর থাকল কী। মহাকাশ গবেষকরা বলছেন আরও অজানা আছে। নানা গ্রহের পর ২০৫০ সালে তারা মনোনিবেশ করবেন নক্ষত্রে ভ্রমণের উপায় বের করতে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো সোসাইটি ফর স্পেস স্টাডিজের চলতি বছরে দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতের মহাকাশ অনুসন্ধানের বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু হবে নক্ষত্র।
প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌরজগতের বাইরে মানুষের ভ্রমণ অত্যন্ত কঠিন। নক্ষত্রগুলোর মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে পৌঁছাতে লাগবে অনেক সময়। নক্ষত্রে পৌঁছানোর জন্য মহাকাশযানের গতি বাড়াতে হবে বহুগুণ। একই সঙ্গে প্রয়োজন হবে শক্তিশালী ও কার্যকর ইঞ্জিন। তবে নক্ষত্রে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি (ডারপা) এবং নাসা পরিচালনা করছে ‘১০০ ইয়ার স্টারশিপ’ নামে একটি কর্মসূচি। এটির মূল লক্ষ্য হলো এক শতাব্দীর মধ্যে মানুষজনকে নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে একমুখী অভিযানে পাঠানো। ব্রিটিশ ইন্টারপ্ল্যানেটারি সোসাইটির সাম্প্রতিক এক সভায় বিজ্ঞানী জিম বেডফোর্ড উল্লেখ করেছেন, কয়েক বছর আগেও আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণের ওপর কাজ করা সংস্থার সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। এখন এমন সংস্থার সংখ্যা পাঁচটি। এই যাত্রার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তি। নক্ষত্রে পৌঁছানোর মহাকাশযানে নিউক্লিয়ার ফিশন ও ফিউশন ইঞ্জিনে বিপুল শক্তি সরবরাহ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভেবে দেখা হচ্ছে ‘ই-সেইল’-এর ধারণা। এটি মহাকাশযানকে ত্বরান্বিত করতে পারে সৌরবায়ুর চার্জযুক্ত কণার সাহায্যে। তাত্ত্বিকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সম্ভব হতে পারে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোয় পৌঁছানো। নক্ষত্রে পৌঁছানোর দীর্ঘ মহাকাশযাত্রায় নভোচারীদের নিরাপদ রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম হাইবারনেশন বা দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীরের কার্যকলাপ কমিয়ে রাখার পদ্ধতি নিয়েও করছেন গবেষণা।



