মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিদিন কত কিছু হারায় মানুষ। সম্পদ হারায়, স্বজন হারায়, বন্ধু হারায়— আরও কত কী যে হারায় তার ইয়ত্তা নেই। প্রতিদিন নাকি ঘুমও হারায় মানুষ। পরের দিন পূরণ হবে ভেবেও হয়ে ওঠে না শেষ পর্যন্ত। এক দিন, দুদিন করে জমতে জমতে ২০৯৯ সালে সে ঘুম জমবে কয়েকশ ঘণ্টায়। গবেষণা বলছে, মানুষের এ ঘুমের ঘাটতি ক্রমে আরও বাড়বে। প্রতি বছর ৫০ থেকে ৫৮ ঘণ্টার মতো ঘুম হারাবে মানুষ। কারণ বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন। ২০২২ সালেই বিজ্ঞানীদের সে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করে ‘ওয়ান আর্থ’ নামেও এক মার্কিন জার্নাল। সে বছরই গবেষণাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদনও বের করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
গবেষণার জন্য ৬৮টি দেশ থেকে ৪৭ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ঘুমের সময়কাল আর সময়সূচি পরিমাপ করে বিজ্ঞানী দলটি। অভ্যন্তরীণ অ্যাক্সেলেরোমিটার (এমন একটি ইলেকট্রনিক সেন্সর, যা কোনো বস্তুর গতি, কম্পন ও অবস্থান পরিমাপ করে) যুক্ত রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করা হয় গবেষণার ফল নির্ণয়ে। গড়ে প্রায় ছয় মাস চলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দরকার ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার ঘুম। তবে ‘ওয়ান আর্থ’-এর এ গবেষণায় দেখা যায় বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের জন্য ঘুমেও এসেছে পরিবর্তন। রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হলে সবার ঘুমের পরিমাণে আসে পার্থক্য। এতে ৭ ঘণ্টার কম সময় ঘুমানোর আশঙ্কা বেড়ে যায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলাইড শহরের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রভাষক অ্যালেক্স আগোস্তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম মনে হতে পারে। তবে ছোট অঙ্ক থেকে এটি একসময়ে অনেক বড় আকার ধারণ করবে।




