দেখা যাক

একটি ছোট্ট স্ক্রিনে অর্ডার। কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। তারপর টেবিলে হাজির এমন এক খাবার, যেটি তৈরি হয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ, স্বাস্থ্যতথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে। রেস্তোরাঁর এই দৃশ্য ২০৪০ সালের। আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর পর মনে হয় বদলে যাবে খাবার পরিবেশনের ধারণা। ভবিষ্যতে ‘কুইক সার্ভিস রেস্টুরেন্ট’ অর্থাৎ দ্রুত পরিষেবা প্রদানকারী রেস্তোরাঁ কেমন হতে পারে, সেটি নিয়ে ২০২৩ সালে নানা ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফুড অ্যান্ড রিটেইল টেকনোলজি প্ল্যাটফর্ম অডার্লি।
তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের রেস্তোরাঁয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে প্রযুক্তি। রেস্তোরাঁয় গ্রাহক আসার সঙ্গে সঙ্গে তার পছন্দ, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির প্রয়োজন বুঝে ফেলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
সেটি ধরে মেনু্য সাজিয়ে গ্রাহককে দেবে তা। সেখান থেকে খাবার নির্ধারণ করতেই শুরু হবে রান্না। ভবিষ্যতে সময় বাঁচাতে পারে স্বয়ংক্রিয় রান্না ও অর্ডার ব্যবস্থাপনা। তবে পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবেশবান্ধব রেস্তোরাঁর ধারণাও পেতে পারে গুরুত্ব। সৌরবিদ্যুৎ, পানির পুনর্ব্যবহার এবং পচনশীল প্যাকেজিং বর্জ্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য তৈরি হতে পারে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক খাবারের ব্যবস্থা। অন্যদিকে, ভবিষ্যতের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় সাফল্যের মাপকাঠি শুধু কম দাম নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কৌশল ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকিন্সির রেস্তোরাঁবিষয়ক পরামর্শকদের প্রধান বেন ম্যাথিউসের মতে, গ্রাহকের কাছে একটি রেস্তোরাঁর প্রকৃত মূল্য তৈরি হয় ভালো খাবার, ধারাবাহিক মান এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে খাবারের মান ও ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা কমাতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট প্রকিউরমেন্ট এবং রোবোটিকস তৈরি করতে পারে নতুন সম্ভাবনা।



