হয়তো

আর ভাল্লাগে না পৃথিবী! একঘেয়ে হয়ে গেছে এখানকার শহুরে জীবন। পানসে লাগছে গ্রামীণ জনপদও। এবার একটু ‘হাওয়া বদল’ না হলেই নয়! চল মঙ্গল গ্রহ থেকে ঘুরে আসি! না, আকাশকুসুম চিন্তা নয়। মন চাইলেই উঠে যাওয়া যাবে মহাকাশের ‘ট্যুরিস্ট বাস’-এ। গন্তব্য মঙ্গল গ্রহ। সেদিন আর দূরে নয়। ২০৫০ সাল হাতের নাগালেই। পৃথিবীর পাহাড়-সমুদ্র ছেড়ে ১৪০ মিলিয়ন মাইল দূরের লাল মাটির গ্রহে আড্ডা দেবেন মানুষ! পর্যটন তালিকায়ও সে সময় শীর্ষে থাকবে মহাকাশের মঙ্গল। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগেই এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন নিল ডিগ্রেস টাইসন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যোতির্পদার্থবিদ। জীবন একঘেয়ে হয়ে গেলে নিজেও যাবেন মঙ্গল গ্রহে। ২০১৮ সালে এ নিয়ে প্রতিবেদনও করেছে গার্ডিয়ান।
এমনই হবে, নাকি আজ থেকে ২৫ বছর পরের সৌরজগৎ হবে বাড়ির উঠান। লাল মাটির ওপর বসে ঠান্ডা পানীয় হাতে উপভোগ করা যাবে মহাকাশের দৃশ্য। পৃথিবীর অবকাশ-আড্ডা-ঘোরাঘুরির রঙ্গমঞ্চ হয়ে উঠবে মঙ্গল। আগের দিনের রাজা-মহারাজারা যেমন পেয়ালা হাতে বাইজি নাচাতেন জলসাঘরে— সে রকমই অনেকটা! লাল গ্রহে ভ্রমণ নিয়ে টাইসনের প্রত্যাশা ব্যাপক। তার মতে, মঙ্গলে নাকি মানুষ সবসময় বাস করবেন না। দখল করে আস্তানা গড়বেন না সেখানে। বরং পৃথিবীর জীবন, জ্বালা-যন্ত্রণা-কোলাহল ভুলে থাকতে তারা মহাকাশের বাসে চড়বেন। টাইসনের মতে, মঙ্গলে ভ্রমণ হবে আসছে দিনের সবচেয়ে বড় লাভজনক ব্যবসা। ২৫ বছর পর অর্থনীতি খাতে ভালো প্রভাব রাখবে মহাকাশ যাত্রা। টাইসন আত্মবিশ্বাসী বটে। কিন্তু নিজের ধারণায় তারও আছে সংশয়। মঙ্গল গ্রহে যে অক্সিজেন নেই। খাবারদাবার, ঘরবাড়ি সবকিছুর অভাব। প্রযুক্তির অগ্রসর ও বিজ্ঞানীদের অশেষ চেষ্টায় নাকি সব জটিলতা দূর হয়ে যাবে।






